Inspirational Story: ভক্তের ডাকে ‘সাড়া’ দিলেন বাবা ভোলেনাথ, সাইকেলে দুর্গম কেদারনাথ জয় যুবকের! ঘরে ফিরতেই ভালবাসায় ভরিয়ে দিলেন সকলে

Inspirational Story: ভক্তের ডাকে ‘সাড়া’ দিলেন বাবা ভোলেনাথ, সাইকেলে দুর্গম কেদারনাথ জয় যুবকের! ঘরে ফিরতেই ভালবাসায় ভরিয়ে দিলেন সকলে

Last Updated:

West Medinipur Inspirational Story: পশ্চিম মেদিনীপুরের এই যুবক শুধুমাত্র সাইকেলে ভর করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন। নিজের স্বপ্নপূরণে সাইকেলে কেদারনাথ যাত্রা সম্পূর্ণ করেছেন। বহু বছরের স্বপ্ন পূরণ করে তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরতেই এলাকাবাসীরা উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। তাঁর এই সাহসিকতা ও অধ্যবসায় স্থানীয়দের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

+

সাইকেল নিয়ে নিজের গন্তব্য কেদারনাথ পৌঁছে গিয়েছেন যুবক

দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: দীর্ঘ দশ বছরের লালিত স্বপ্ন অবশেষে ডানা মেলল বাস্তবতার মাটিতে। স্রেফ একটা বাইসাইকেলকে সঙ্গী করে, অদম্য ইচ্ছা আর জেদকে পাথেয় করে উত্তরাখণ্ডের দুর্গম কেদারনাথ যাত্রা সম্পন্ন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের যুবক স্বরূপ বেরা। মাত্র ৪৬ দিনের মাথায় এই অবিশ্বাস্য অভিযান শেষ করে নিজের গ্রামে ফিরতেই তাঁকে ঘিরে উল্লাসে ফেটে পড়েন আপামর সাধারণ মানুষ। ফুলের মালা আর উষ্ণ অভ্যর্থনায় ঘরের ছেলেকে বরণ করে নেন এলাকাবাসীরা।

পেশা বা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বহু বছর ধরে মনের কোণে একটি সুপ্ত ইচ্ছা পুষে রেখেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের সাস্তানগরের বাসিন্দা স্বরূপ বেরা। তাঁর স্বপ্ন ছিল আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত ট্রেনে বা গাড়িতে চড়ে নয়, বরং নিজের শক্তিতে সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে যাবেন কেদারনাথের দরবারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি ঘর থেকে সাইকেল নিয়ে একাই বেরিয়ে পড়েন তিনি। একের পর এক রাজ্য পার করে, মাইলের পর মাইল পিচ রাস্তা আর পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে পৌঁছে যান উত্তরাখণ্ডের সেই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে।

সেখানে পুজো দিয়ে এবং কেদারনাথের দর্শন সেরে আবার একইভাবে সাইকেলেই বাড়ির পথ ধরেন এই তরুণ। গ্রামের মাটিতে পা দিয়ে আবেগঘন গলায় স্বরূপ জানান, প্রায় এক দশক ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সাইকেল নিয়ে যখন একা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, তখন অনেকেই হয়ত বিষয়টিকে অসম্ভব ভেবেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে অপরিচিত বহু মানুষ যেভাবে তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সেই ভালবাসার জোরেই এই কঠিন লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়েছে। কেদারনাথের দর্শন পাওয়ার আনন্দ এবং ঠিক ৪৬ দিনের মাথায় সুস্থ শরীরে নিজের গ্রামে ফেরার স্বস্তি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলেই মনে করছেন তিনি।

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

স্বরূপ গ্রামে ঢুকতেই তাঁকে একঝলক দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার যুবকরা তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে সংবর্ধনা জানান। সাইকেলের মত একটি সাধারণ যান নিয়ে এত দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ অতিক্রম করার এই সাহসিকতা এখন মুখে মুখে ফিরছে গোটা দাঁতন জুড়ে। স্বরূপের এই অবিশ্বাস্য অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের রূপকথা শুধু গ্রামবাসীদেরই গর্বিত করেনি, বরং এলাকার অজস্র তরুণকে নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকার এক নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed