PoK পাকিস্তানের অংশ? ভুল মানচিত্র দেখাল আমেরিকা, মোদি বিদেশে থাকাকালীন জল-নিরাপত্তাতেও উদ্বেগ
নয়াদিল্লি: ফ্রান্সে G7 সম্মেলন চলাকালীনই জো ধাক্কা খেল ভারত। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন সমন্বিত বাহিনীর নামবদল করল তারা। কয়েক বছর আগে ওই বাহিনীর নাম রাখা হয় United States Indo-Pacific Command (USINDOPACOM). কিন্তু আগের নামে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। Indo শব্দটি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র US Pacific Command (USPACOM) অংশটুকু রাখা হল। শুধু তাই নয়, নিজেদের ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ অঞ্চলের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে তারা, তাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের বলেই দেখানো হয়েছে। এমতাবস্থায় ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে দূরত্ব চওড়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের। (US Indo-Pacific Command)
১৯৪৭ সালে আমেরিকার তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের হাত ধরে ওই সমন্বিত সশস্ত্র বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। আমেরিকার সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম সমন্বিত বাহিনী সেটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এশিয়ার নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে বড় ভূমিকা ছিল ওই বাহিনীর। একাধিক যৌথ অভিযানেও অংশ নেয় তারা, কোরিয়া যুদ্ধ থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ। পাশাপাশি, বিপর্যয়ের সময় মানবিক সহযোগিতাও জোগায়। ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা গড়ে তোলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল গত কয়েক দশক ধরে। (US-India Relations)
One more nail in the coffin of the Quad? https://t.co/7QauDO0a3s
— Shashi Tharoor (@ShashiTharoor) June 17, 2026
USPACOM-এর সদর দফতর হাওয়াইয়ে। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক অভিযানে যুক্ত থেকেছে তারা। আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত তাদের প্রভাব অনভূত হয়েছে আজও। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি, সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত মহড়া দেওয়া, উপকূলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। ২০১৮ সালে সশস্ত্র বাহিনীর নামের সঙ্গে Indo শব্দটি যুক্ত করা হয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই। সেই থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আরও মজবুত হয়। আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের জন্যও তারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসন ঠেকাতে একসঙ্গে মহড়া দেওয়াও শুরু হয়।
আরও পড়ুন: ‘দিদির সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক, বিদ্রোহ করতেই পারি না’, তৃণমূল থেকে NCPI হয়ে বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারের দাবি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করেই নামবদলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমেরিকার এই পদক্ষেপে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। আমেরিকা, জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত চতুর্দেশীয় উপকূল নিরাপত্তা জোটেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘Quad-এর কফিনে আর একটা পেরেক পোঁতা হল’।
তবে আরও যে বিষয়টি নজর কেড়েছে, তা হল, USPACOM ‘এরিয়া অফ রেসপন্সিবিলিটি ম্যাপ’। ওই মানচিত্রে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ বলে দেখানো হয়েছে। ভারত সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
Swapan Samaddar : ধৃত স্বপন সমাদ্দার, আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান



Post Comment