Arm Wrestling: কার পেশিতে কত জোর? দেখতে টানটান উত্তেজনা! মোবাইলের নেশা কাটাতে পাঞ্জা লড়াইয়ে মাতল দাঁতন

Last Updated:

Arm Wrestling: স্মার্টফোন ও অনলাইন গেমের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ফেরাতে অভিনব উদ্যোগ দাঁতনে। সরাই বাজারে আয়োজন জেলা আর্ম রেসলিং বা পাঞ্জা লড়াই চ্যাম্পিয়নশিপ। শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন এই শক্তি পরীক্ষায়।

+

পাঞ্জা লড়াইয়ে মেতে উঠেছেন যুবকরা

দাঁতন, রঞ্জন চন্দ: স্মার্টফোনের রমরমা এবং আধুনিক অনলাইন গেমের আগ্রাসনে যখন গ্রামীণ বাংলার বহু চিরাচরিত খেলাধুলো হারিয়ে যেতে বসেছে, ঠিক তখনই মাটির টান আর শরীরচর্চার পুরোনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার এক অনবদ্য ছবি ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অঙ্গ পাঞ্জা লড়াইকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল দাঁতনের একটি গ্রামীণ ক্লাব। দাঁতনের সরাই বাজারের দুর্গামণ্ডপ চত্বরে আয়োজিত হল জেলা আর্ম রেসলিং বা পাঞ্জা লড়াই চ্যাম্পিয়নশিপ।

ছুটির মেজাজে এই প্রতিযোগিতা দেখতে শুধু প্রবীণ মানুষজনই নন, মণ্ডপ প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছিলেন এলাকার বহু তরুণ ক্রীড়াপ্রেমীও। করতালি আর উৎসাহের আবহে গমগম করে উঠল পুরো এলাকা। আয়োজকদের ডাকে সাড়া দিয়ে এ দিনের প্রতিযোগিতায় কার্যত শক্তির মেলা বসেছিল সরাই বাজারে। বেলদা, দাঁতন, নারায়ণগড়, মেদিনীপুর শহর এবং খড়্গপুর-সহ গোটা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী নিজেদের শক্তি ও কৌশল পরখ করতে সেখানে এসে উপস্থিত হন। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তরুণ প্রতিযোগীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন: উপকূলে নজরদারিতে এবার হাইটেক পদক্ষেপ, এআই ড্রোন উড়িয়ে কড়া পাহারা! আসল ‘স্ট্র্যাটেজি’ জানুন

সাধারণ টেবিলের দুই প্রান্তে একে অপরের হাত আঁকড়ে ধরে পেশির টানটান লড়াইয়ে যখন প্রতিযোগীরা ঘাম ঝরাচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত দর্শকদের হাততালি ও চিৎকার যেন পুরোনো দিনের মেলা বা আখড়ার স্মৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনছিল। শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি নিয়ম ও টেকনিকের নিখুঁত ভারসাম্যই ছিল এই লড়াইয়ের মূল আকর্ষণ। এক সময় গ্রামবাংলার দুর্গাদালান, ক্লাব প্রাঙ্গণ কিংবা পাড়ার মাচায় আড্ডার ফাঁকে পাঞ্জা লড়াই ছিল অত্যন্ত পরিচিত একটি দৃশ্য। কিন্তু সময়ের নিয়মে ভার্চুয়াল বিনোদনের প্রভাবে সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই অতীত।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান হবে এবার, একগুচ্ছ নয়া পরিকল্পনা! প্রশাসনের বড় কর্তারা দিলেন সুখবর

আয়োজক ক্লাবের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, প্রতি বছর নিয়মিত ভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পিছনে একটাই লক্ষ্য, যুবসমাজকে মোবাইল স্ক্রিনের নেশা ছাড়িয়ে শারীরিক কসরত ও মাঠমুখী করা। এই ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় স্তরে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার আবহ তৈরি করার পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বৃহত্তর মঞ্চে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। শারীরিক শক্তি, মানসিক একাগ্রতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পাঞ্জা লড়াই এখনও যে সমান প্রাসঙ্গিক, দাঁতন যেন তারই জ্বলন্ত প্রমাণ দিল।

Previous post

‘৩৭ বছর আমার কেরিয়ার, আমি দেখিনি কোনও মুখ্যমন্ত্রী…’, চোরবাগান প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল

Next post

পিচ ভিজে থাকায় নষ্ট প্রথম সেশন, ৬ উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে বাংলা, ব্যাটিং নিয়ে খুশি নন লক্ষ্মী

Post Comment

You May Have Missed