Agriculture News: বাম্পার ফলনেও মাথায় হাত কৃষকদের, পাট চাষে প্রতি পদে খালি হয়েছে পকেট! ঠিক দাম না পেলে বিফলে যাবে সব পরিশ্রম
Last Updated:
East Bardhaman Agriculture News: পূর্বস্থলী ব্লকে চলতি মরসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাটের ব্যাপক চাষ হয়েছে। তবে ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাড়তি উৎপাদন খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সেচ এবং শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে চাষের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ফলে ভাল দাম না পেলে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হবে।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পূর্ব বর্ধমান জেলা রাজ্যের ‘ধানের গোলা’ নামে পরিচিত। তবে ধান চাষের পাশাপাশি পাট চাষের ক্ষেত্রেও জেলার পূর্বস্থলী ব্লকের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। প্রতি বছর বহু চাষি পাট চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ বছরও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পাটের চাষ হয়েছে। তবে ভাল ফলন এবং ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে চাষিদের মধ্যে যেমন আশাবাদ রয়েছে, তেমনই বাড়তি উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। পূর্বস্থলীর চাষি বিমল দাস জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শ্যালো মেশিনের জলের উপর নির্ভর করে সেচ দিতে হচ্ছে।
ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরিও এখন অনেক বেশি। পাট কাটতে যেমন ৫০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে, তেমনই পাট ছাড়ানোর ক্ষেত্রেও একই খরচ পড়বে। বিমল দাসের দাবি, বিঘাপ্রতি পাট চাষে বর্তমানে ২০ হাজার টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। জমির অবস্থার ওপর নির্ভর করে কোথাও খরচ কিছুটা কম হলেও, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সার, ওষুধ, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর মতে, পাটের বাজারদর যদি প্রতি কুইন্টাল ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে থাকে, তাহলে চাষিরা কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবেন। তবে দাম ১০ হাজার টাকার নিচে নেমে গেলে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর পাটের দাম বাড়লেও তার প্রকৃত সুবিধা চাষিরা পাননি। মূলত ব্যবসায়ীরাই সেই লাভের বড় অংশ পেয়েছেন। কারণ অধিকাংশ চাষিদের পক্ষে দীর্ঘদিন পাট মজুত করে রাখার সামর্থ্য থাকে না। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন তাঁরা। অন্য এক কৃষক রন দাস এবিষয়ে জানান, তিনি প্রায় ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে পাটের তেমন কোনও বড় সমস্যা না থাকলেও পর্যায়ক্রমে বৃষ্টিপাত হলে ফলন আরও ভাল হবে। তবে সম্প্রতি বজ্রপাতে তাঁর কিছু জমির পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক স্থানে বাজ পড়ায় কিছু অংশের পাট পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ওই চাষির দাবি, বিঘাপ্রতি পাট চাষে বর্তমানে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
পাট কাটা, বাঁধা, জাগ দেওয়া ও ছাড়ানোর মতো প্রতিটি ধাপেই খরচ বেড়েছে। তাই পাটের দাম যদি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা প্রতি কুইন্টাল থাকে, তাহলে কিছুটা লাভ হবে। কিন্তু দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে নেমে এলে লাভের কোনও সম্ভাবনাই থাকবে না।ফলন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিঘাপ্রতি প্রায় ৩ কুইন্টাল পাট উৎপাদনের আশা করছেন। সেই হিসেবে বাজারদর ভাল থাকলে কিছুটা লাভ হতে পারে। তবে দাম কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে। উল্লেখ্য, পাট চাষ সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে পরিপক্ক হয়। পূর্বস্থলী এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এখনও পাট চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বাড়তে থাকা উৎপাদন খরচ এবং বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে চাষিরা এখন ভাল ফলন ও ন্যায্য মূল্যের আশাতেই দিন গুনছেন।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
Post Comment