এবছর থেকে কারা পাবেন না দুর্গাপুজোর অনুদান? স্পষ্ট ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

এবছর থেকে কারা পাবেন না দুর্গাপুজোর অনুদান? স্পষ্ট ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

West Bengal

-Ritesh Ghosh

নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা এবং বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন ধর্মীয় বা আপৎকালীন ভাতা প্রদানের নীতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। স্বভাবতই এই পরিবর্তনের প্রভাব দুর্গাপুজোর অনুদানেও পড়েছে।

সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের হাজার হাজার ক্লাব কর্তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তবে কি এবার দুর্গাপুজোর অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে? সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। এদিন শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারা পাবেন আর কারা পাবেন না অনুদান, তাও প্রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Chief Minister Suvendu Adhikari discussing new Durga Puja donation rules

তিনি বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করাই তাঁর বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পুজোর অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হবে। যারা একান্তই পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে অর্থকষ্টের সম্মুখীন হন, শুধুমাত্র তারাই রাজ্য সরকারের এই আর্থিক অনুদানের সুবিধা পাবেন। যাদের নিজস্ব তহবিল বা আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে, তাদের সরকারি অনুদান পাওয়ার আর কোনও যৌক্তিকতা নেই বলেই মনে করছে নতুন সরকার।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক ছিল। ২০১৮ সালে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, পুজোর আয়োজনে ক্লাবগুলিকে যাতে বড় কোনও আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য রাজ্য কোষাগার থেকে তাদের অনুদান দেওয়া হবে। সেই শুরুতেই প্রতিটি ক্লাব ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য পেয়েছিল। পরে তা বাড়তে বাড়তে মাত্রা ছাড়ায়। গতবছরে রাজ্যের প্রায় ৪৪ হাজার ক্লাবকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

এই বিপুল অর্থব্যয় রাজ্যের কোষাগারে বিপুল চাপ তৈরি করে। যেখানে কলকাতা ও শহরতলির বড় পুজোগুলির বাজেট কয়েক কোটি টাকা, তখন তারাও কেন এই অনুদান নেবে তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পরই স্পষ্ট করে দেন যে, আগের সরকার যেসব ভাতা ধর্মের ভিত্তিতে চালু করেছিল, তা আর চলবে না। সরকারি অর্থ বন্টনের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ পদ্ধতি প্রয়োজন। ঠিক এই কারণেই দুর্গাপুজোর অনুদানের ক্ষেত্রেও তিনি নতুন নিয়ম চালুর ইঙ্গিত দিলেন।

Post Comment

You May Have Missed