কয়লা-বালি-ত্রিপলের পর কয়েকশো কোটি টাকার মাটি চুরি! অভিষেকের বিরুদ্ধে নয়া এফআইআর
West Bengal
-Ritesh Ghosh
শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও কয়লা পাচারের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। এবার কোনও সরকারি প্রকল্প নয়, সরাসরি বিঘার পর বিঘা জমির উর্বর মাটি অবৈধ খনন ও চোরাচালানের মতো গুরুতর বিষয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি সোমবার গভীর রাতে কালীতলা আশুলিয়া থানায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেছেন। তৃণমূল সাংসদ ছাড়াও এই মামলায় নাম রয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-সহ মোট ২৩ জনের। অভিযোগকারীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাফিয়াদের মতো রাজত্ব চালিয়ে মাটির বিপুল কালো সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল।

বিজেপি নেতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত কয়েকবছর ধরে ধাপে ধাপে প্রায় ১৬৩ বিঘা জমির উপরিভাগের মূল্যবান ফসলি মাটি সম্পূর্ণ বেআইনি উপায়ে ও পরিবেশ আইন অমান্য করে কেটে তা বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবহারে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই অবৈধ চক্রের পেছনে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক লেনদেনের এক বিশাল কালো সাম্রাজ্য লুকিয়ে রয়েছে। এই কারবারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাকারী তাঁর দাবির সপক্ষে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার জায়গার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্যাটেলাইট ছবি পেশ করেছেন। এই প্রযুক্তিগত নথিগুলিতে বিগত কয়েক বছরে এই অঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকার মাটি কীভাবে ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে এবং ভূপ্রকৃতি কৃত্রিমভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নেতা ববির অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকেই এই মাফিয়াতন্ত্র বিস্তার করতে শুরু করেছিল যা পরবর্তীতে ২০২২ এবং ২০২৩ সালের দিকে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষতিকর মাটি কাটার তীব্র প্রতিবাদ জানালেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম সদর্থক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উল্টে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের গোপন বোঝাপড়ার কারণেই এই চোরাই কারবার ফুলেফেঁপে উঠেছিল। বিশাল এলাকা জুড়ে এইভাবে নিয়মিত মাটি কাটার ফলে বসতি ও চাষের জমিতে ধস এবং ভূমিক্ষয়ের আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে, যা নদী সংলগ্ন গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ডায়মন্ড হারবারে সাইক্লোন আমফানের সময়ও দুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য সরকারি স্তরে পাঠানো প্রচুর ত্রিপল ও উদ্ধারকারী সামগ্রী আত্মসাৎ করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়েও তৃণমূল নেতৃত্বের ছায়ায় প্রায় ২৫০ কোটির টাকার সেই ত্রিপল দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।
সেই থেকে ববির লড়াই চলছে। ত্রিপলের পর মাটি দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের মুখোশ খুলতে আসরে নেমেছেন এই বিজেপি নেতা।



Post Comment