মীনাক্ষী-শীর্ষণ্যকে পিছনে ফেলে জিতে গেলেন দীপাঞ্জন! উত্তরপাড়ায় জয়ী বিজেপি প্রার্থী

মীনাক্ষী-শীর্ষণ্যকে পিছনে ফেলে জিতে গেলেন দীপাঞ্জন! উত্তরপাড়ায় জয়ী বিজেপি প্রার্থী

Last Updated:

তিন রাউন্ড শেষে মীনাক্ষী এবং শীর্ষণ্যকে পিছনে ঠেলে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন দীপাঞ্জন। অবশেষে জয়ী হলেন পদ্মপ্রার্থী। ৫৬ হাজার ৫৯৪ ভোটে জয়ী হলেন তিনি। তাঁর সবথেকে কম ব্যবধানে রয়েছেন কল্যাণ পুত্র শীর্ষণ্য। তাঁর প্রাপ্ত ভোট  ৪৬ হাজার ৬৮১।

কে এগিয়ে কে পিছিয়ে?
কে এগিয়ে কে পিছিয়ে?

[ ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল

জয়ী- কাঞ্চন মল্লিক (তৃণমূল)

জয়ের ব্যবধান- ৩৫ হাজার ৯৮৯]

তিন রাউন্ড শেষে মীনাক্ষী এবং শীর্ষণ্যকে পিছনে ঠেলে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন দীপাঞ্জন। অবশেষে জয়ী হলেন পদ্মপ্রার্থী। ৫৬ হাজার ৫৯৪ ভোটে জয়ী হলেন তিনি। তাঁর সবথেকে কম ব্যবধানে রয়েছেন কল্যাণ পুত্র শীর্ষণ্য। তাঁর প্রাপ্ত ভোট  ৪৬ হাজার ৬৮১।

হুগলি নদীর তীরের প্রাচীন জনপদ উত্তরপাড়া—ঐতিহ্য আর শহুরে জীবনের মিশেলে গড়ে ওঠা এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানকার অর্থনীতি মূলত শহরকেন্দ্রিক; বেশিরভাগ মানুষ ছোটখাটো চাকরি বা পরিষেবা নির্ভর পেশায় যুক্ত। তবে এলাকার বহু কলকারখানা আজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দমোটর কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সেই প্রভাব আরও প্রকট। ফলে এলাকার বহু তরুণ-তরুণী কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন।

স্থানীয় সমস্যার তালিকাও ছোট নয়—পানীয় জলের অভাব, বেআইনি নির্মাণ, যানজট, নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়মিত জঞ্জাল পরিষ্কারের অভাব নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। কোন্নগর সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী ভাগাড় না থাকাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে উঠে আসছে।

রাজনৈতিক সমীকরণে উত্তরপাড়া বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সিপিএমের একটি স্থায়ী ভোটভিত্তি রয়েছে। সেই জায়গাকে মাথায় রেখেই প্রার্থী হিসেবে মীনাক্ষীকে সামনে এনেছেন মহম্মদ সেলিমরা। প্রচারে মীনাক্ষী নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা শুনছেন, লিফলেট বিলি করছেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বাম শিবিরের দাবি, তাঁর প্রচারে ভালো সাড়া মিলছে। তবে হিন্দমোটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পুরনো ক্ষত এখনও অনেকের মনে রয়েছে, যা বামেদের জন্য অস্বস্তির কারণ।

অন্যদিকে, বনেদি শহর কোন্নগর ও আশেপাশের এলাকা একসময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি হলেও ২০১১ সালের পর থেকে রাজনৈতিক চিত্র বদলেছে। বর্তমানে উত্তরপাড়া ও কোন্নগর—দুটি পুরসভাই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। পঞ্চায়েত স্তরেও শাসকদলের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূলের কাঞ্চন মল্লিক। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় কম দেখা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপির প্রার্থী দীপাঞ্জন এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত মুখ। তবে গত কয়েক বছরে দলের সংগঠন কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। প্রাক্তন এনএসজি পরিচয় তাঁকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিলেও তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ভাবমূর্তিতে ধাক্কা লেগেছে। তিনি অবশ্য দাবি করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রার্থী শীর্ষণ্য কিছুটা এগিয়ে থেকেই লড়াই শুরু করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। শক্তিশালী সংগঠন, পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব—দুটোই তাঁর পক্ষে কাজ করছে। তবে নির্বাচনের আগে আচ্ছেলাল যাদবের বিজেপিতে যোগদান কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

সব মিলিয়ে, উত্তরপাড়ার ভোটযুদ্ধ এবারও বেশ জমজমাট। তবে বাসিন্দাদের একটা বড় অংশের আক্ষেপ—তিনটি প্রধান দলেরই প্রার্থী বহিরাগত। গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবারও সেই ধারাই বজায় থাকতে পারে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত উত্তরপাড়ার মানুষ কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।

Previous post

আরসিবিকে চ্যাম্পিয়ন করার অন্যতম কারিগর, আইপিএলের মাঝেই আচমকা ভারত ছেড়ে ইংল্যান্ডে!

Next post

নির্বাচনের রেজাল্ট ২০২৬—দেখুন সর্বশেষ ও নজরকাড়া আপডেট: BJP-এর সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বেলা 05:50 PM-টা পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন।

Post Comment

You May Have Missed