‘আমার মাথায় ফের চুল গজাবে, আজকের পর থেকে মমতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’, বললেন বিজেপি-র কৌস্তভ বাগ
ব্যারাকপুর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্য়ুত না করা পর্যন্ত মাথা মুড়িয়ে রাখবেন বলে পণ করেছিলেন। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই পণ থেকে তিনি মুক্ত হবেন বলে মনে করছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, আবার চুল গজাবে তাঁর মাথায়। বেলা ১০টার পর থেকে তৃণমূলের গলা থেকে কথা বেরোবে না বলেও দাবি করলেন তিনি। (Kousatv Bagchi)
সোমবার সকালে গণনা শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা ছড়ায় ব্যারাকপুরে। সেখানে গণনাকেন্দ্রের লাইনে একেবারে রণমূর্তিতে দেখা যায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের। পরস্পরকে লক্ষ্য করে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান তোলেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এভাবে চললে গণনা বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়। (West Bengal Election Result)
আরও পড়ুন: ভোট গণনা শুরুর আগেই ব্যারাকপুরে তুমুল উত্তেজনা, স্লোগান যুদ্ধে অশান্তি সকালেই
সেখানে কৌস্তভকে লক্ষ্য করেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। জবাবে কৌস্তভ বলেন, “আমাকে দেখে ওদের মধ্যে ভয়ভীতির সঞ্চার হয়। সেটা নিয়ে আমি কিছু করতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি ১০টার পর ওদের গলা দিয়ে স্বর বেরোবে না। তার পরও আমি তাদের পাশে একই ভাবে থাকব।”
আরও পড়ুন: নজরে বঙ্গ রাজনীতির এই হেভিওয়েট প্রার্থীরা, আগামী ৫ বছর কী ভূমিকায় নির্ধারণ হবে আজই
কৌস্তভ শুরুতেই বেলাইনে গণনাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। জবাবে কৌস্তভ বলেন, “একটা কনফিউশন। পুলিশের তরফে বলা হয়েছিল। আমরা পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলাম সামনে কী আছে। আমরা আইন ভেঙে, লাইন ভেঙে কিছু করার পক্ষপাতী নই। বিজেপি অন্তত কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের এটা শিক্ষা নয়।”
পাশাপাশি, নিজের মাথায় পুনরায় চুল গজানো নিয়েও আত্মবিশ্বাসী কৌস্তভ। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত ভাবে বলছি, আমার যে দীর্ঘদিনের পণ, তিন বছর ধরে যে পণ বনিয়েছিলাম আমি, সেই পণ আজকের পর থেকে… আমার মাথায় ফের চুল গজাবে এবং রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের পর থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। দেওয়াললিখন স্পষ্ট।”
এবারে দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।
দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় গত ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ হয় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। দুই দফাতেই এবার রেকর্ড হারে ভোটদান হয়। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের তুলনায় ২০২৬-এ ভোটার সংখ্যা ৫১ লক্ষ কমলেও, গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৩১ লক্ষ ভোট বেশি পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আর এবার ২০২৬-এ গড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। এই বিপুল ভোটদান নজিরবিহীন এবং সর্বকালীন রেকর্ড। শতাংশের পাশাপাশি রেকর্ড তৈরি হয়েছে সংখ্যার হিসাবেও। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্য়ে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ। SIR-এর জেরে এবার ভোটার সংখ্যা কমে হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ। অর্থাৎ, ২০২১-এর তুলনায় এবার ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছে।
তবে মোট ভোটার কমলেও প্রদত্ত ভোট চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ২০২১-এ ভোট দিয়েছিলেন ৬ কোটি ৩ লক্ষ ভোটার। আর, এবার মোট ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ভোটার। ২ দফা মিলিয়ে ২০২১-এর তুলনায় ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ। প্রথম দফায় যে ১৬টি জেলায় ভোট হয়েছে, ২০২১-এর তুলনায় সেই জেলাগুলিতে, প্রায় সাড়ে ২১ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছে। আর, দ্বিতীয় দফার ৭ জেলায় বেশি ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ।



Post Comment