‘ব্যারাকপুরে খাতাই খুলতে পারবে না বিজেপি’,অর্জুনের ‘বাতাসা’ সেলিব্রেশনের জবাবে হুঙ্কার শান্তনুর
কলকাতা: রাত পোহালেই বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ। চতুর্থবার ক্ষমতায় আসবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, নাকি বাংলার মসনদ প্রথমবার দখল করবে বিজেপি, এই চর্চাই এখন সকলের মুখে মুখে। তবে সরকারিভাবে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) ফলপ্রকাশ হওয়ার আগেই আত্মবিশ্বাস ঝরছে অর্জুন সিংহের (Arjun Singh) কথায়। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্যে পাল্টা হুঙ্কার শোনা গেল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শান্তনু সেনের (Santanu Sen) গলাতেও।
ফলপ্রকাশের আগে অর্জুন সিংহ বাংলায় বিজেপির জয়ের বিষয়ে বেশ আশাবাদীই। তিনি তো কীভাবে সেলিব্রেশন করবেন, সেটাও পর্যন্ত বলে দিচ্ছিলেন। একদা বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মুখে উঠে এসেছিল ‘গুড় বাতাসা’ প্রসঙ্গ। গরমে ভোট, তাই ভোটারদের ঠান্ডা রাখতে গুড়-বাতাসা খাওয়াবেন বলেছিলেন তিনি। সেই ‘গুড় বাতাসা’ প্রসঙ্গ উঠে এল অর্জুন সিংহের মুখেও।
নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী জয়ের পর কীভাবে সেলিব্রেশন করবেন জানতে চাওয়ায়, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিজেপি জিতলে ডিজে বাজবে না। অর্জুন বলেন, ‘ডিজে লাইন কেটে দিয়েছি আমরা। আর ডিজে বাজানোর সাধ নেই। আমরা কোনও ডিজে বাজাব না। উন্নয়নকে রাস্তায় নিয়ে আসব, আর সকলকে গুড় বাতাসা খাওয়াব। আমরা ডিজে বাজানোয় বিশ্বাসী নই। ডিজের তার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেটে দিয়েছে।’
বিজেপি প্রার্থীর এই জয়ের দাবি মানতে নারাজ শান্তনু সেন। তিনি অর্জুনের দাবি নস্যাৎ করে জানিয়ে দেন বিজেপির ক্ষমতায় আসা তো দূর, ব্যারাকপুরে বিজেপি খাতাই খুলতে পারবে না। শান্তনুকে বলতে শোনা যায়, ‘ভারতবর্ষ ১২ বছর এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় থেকে বিজেপি কতটা উন্নয়ন করেছে, সেটা তো দেশের মানুষ দেখেইছে। মমতা বন্দোপাধ্যায় বিগত ১৫ বছরে সম্পূর্ণ পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে বাংলাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে, সেটাও বাংলার মানুষ দেখেছে। বাংলার দুই লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখে, ৯১ লক্ষ মানুষের ভোটার অধিকার কেড়ে নিয়ে, বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়ে, বাংলার আইকনদের অপমান করে, সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশ, প্রশাসন, সেন্ট্রাল ফোর্স থেকে নির্বাচন কমিশন, সব কাজে লাগিয়েও যখন বুঝতে পেরেছেন যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৪ঠা মে চতুর্থবার তৃণমূল সরকার গঠন হতে চলেছে, তখন তাঁরা বুঝতে পেরে এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথাবার্তা বলছেন। আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তিনি যে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কথা বলছেন, সেখানেও বিজেপি খাতা খুলতে পারবে না এবং সামগ্রিকভাবে আবার সবুজ ঝড় উঠবে।’



Post Comment