IPS অজয় শর্মা বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের কোথায় ছিলেন ? এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গির খান
সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দ্বিতীয় দফার আগে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠতেই কড়া কমিশন ! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে চালানো হয় তল্লাশি অভিযান। জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে হুঁশিয়ারি দেন খোদ, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা IPS ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অবজার্ভার অজয় পাল শর্মা। আর এরপরেই পশ্চিমবঙ্গের ভোট চর্চায় যোগী রাজ্যের এই আইপিএস। এই ঘটনার পর এবার এবিপি আনন্দ-এর কাছে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন জাহাঙ্গির খান।
আরও পড়ুন, “নকল আঙুল লাগিয়ে ভোট চুরি..” ! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর
প্রশ্ন: কিছুক্ষণ আগে দেখলাম যে, জেলার যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা, তিনি আপনার গ্রামে গেলেন, এবং বেরোনোর সময় আপনার পার্টি অফিস এবং গ্রামেও জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হল। গতকালও দেখা গিয়েছে, তিনি আপনার বাড়ির সামনে ছিলেন, কার্যত সেখানে হুঁশিয়ারি দেওয়া হল, আপনার কোনও কর্মী সমর্থক যেভাবে বাকি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ, সেদিক থেকে আপনার খবর নেওয়া হোক..
জাহাঙ্গির খান: দেখুন গতকাল পুলিশ অবজারভার অজয় পাল শর্মা এসেছিলেন, বেলা ৩ টের সময় আমার পার্টি অফিসে। প্রথমে এসে আমার নিরাপত্তী রক্ষীকে ডেকেছিল। এবং ডেকে চোখ বুঝে ধমকেছে। এবং গ্রেফতারের ভয় দেখিয়েছে। তারপরে আবার আমি ভিতরে অফিসে বসেছিলাম, আমার কাছে খবর এসেছে, যে এরকম হচ্ছে। তারপরে আমি বাইরে বেরোলাম। বেরিয়ে আমার সিকিউরিটিকে চাপ দিলাম। তখন আমি চেঁচামেচি করছি। তখন ওই অবজারভার শুনে-দেখতে পেয়ে ব্যাকে হাঁটলেন। ..কিছুক্ষণ পরে…আমার গ্রামে গিয়ে, বাড়ির মহিলাদেরকে, মায়েদেরকে- বয়স্কদেরকে, এলাকায় গিয়ে চমকে, এই ভিডিও করে ডায়লোগ দিয়ে গিয়েছে। ..শুনছি ও নাকি পুলিশ পোস্টিংয়ের নামে টাকা নেয় ! ট্রান্সফার করার জন্য টাকা নেয়। তারপরে একটা মহিলার সঙ্গে ওর কেস হয়েছে। সে ডিজিকে জানিয়েছিল, তাঁকে আবার অন্য কেসে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আবার আজকে মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছেন, কত মহিলার সঙ্গে…ব্যস্ত হয়ে আছে। এই ওর চরিত্র ! এবং ভাবছেন তৃণমূল নেতাদেরকে ধমকে চমকে ভয় দেখিয়ে, ও ভাবছে উত্তরপ্রদেশের মতো বুলডোজার চালাবে। বাংলার মাটি থেকে…ফলতার মাটি থেকে আমরা, বিজেপিকে উৎখাত করব বা উচ্ছেদ করব।
প্রশ্ন: উত্তরপ্রদেশে বলা হয়েছে সিঙ্ঘম আইপিএস অফিসার। আপনি সামলাবেন কী করে ?
জাহাঙ্গির খান: ও যদি নিজেকে সিঙ্ঘম মনে করে, আমি নিজেকে পুষ্পা মনে করি, ঝুকেগা নেহি।
প্রশ্ন: পুলিশ পর্যবেক্ষক এল, তাঁকে ঘিরে যে স্লোগান দেওয়া হল, এই স্লোগান দেওয়াটাকে আপনি কী করে দেখছেন ? আপনার কি নির্দেশ ছিল ?
জাহাঙ্গির খান: আমার কোনও নির্দেশ ছিল না, এট সাধারণ মানুষের স্বতস্ফূর্ত ভাব।
প্রশ্ন: কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন যে, যে ধরণের অ্যাক্টিভিটি তিনি করছেন, সেটাতে কলকাতা হাইকোর্ট যেন কন্ট্রোল করে। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, ২৯ তারিখ পর্যন্ত তাঁরা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনে যাওয়া যেতে পারে। আপনি নিজেও তো নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারটা বলছেন..
জাহাঙ্গির খান: হস্তক্ষেপ করবে না ওনার সম্বন্ধে, কিন্তু যে রোল, সেই রোলটা ঠিক নেই। একটা অবজারভারের কাজ কী ? অবজারভারের কাজ ফলোআপ করা। এবং কিছু হলে ইলেকশন কমিশনে জানানো, এবং লোকাল এসপি, লোকাল আইসি-কে জানিয়ে, তার মাধ্যমে কাজ করা। উনি নিজে সশরীরে স্পটে গিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে, মানুষকে ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে, এটা কিন্তু অবজারভারের কাজ নয়। তাই আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, কাল সকাল হলে ভোট শুরু হবে। এই মুহূর্তে নিয়ম নেই যে কাউকে, কাউকে কোনও আধিকারিককে সরানো।এখন দেখছি জয়েন্ট বিডিও সৌরভ বাবুকে সরিয়ে দিয়েছে।এই তো ওরা গা-জোয়ারি কাজ করছে। যতোই গা জোয়ারি কাজ করুক, আধিকারিক সরিয়ে , পুলিশ পাঠিয়ে কিছু হবে না।



Post Comment