আইপ্যাক মামলায় মমতার ভূমিকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, আদালত বলল, ‘এভাবে গণতন্ত্রকে…’

আইপ্যাক মামলায় মমতার ভূমিকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, আদালত বলল, ‘এভাবে গণতন্ত্রকে…’

কলকাতা: আইপ্যাক মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের। আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি এবং সংস্থার অফিসে তল্লাশি চলাকালীন মমতার ঢুকে পড়া একেবারেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করল শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, এভাবে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যায় না। আদালত বলে, ‘এটা কোনও কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ নয়। কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।’ (Supreme Court on Mamata Banerjee)

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র আগেও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর উদ্দেশে বলেন, “এই মামলা বা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, রাজ্য বা কেন্দ্রের মধ্যেকার বিরোধ নয়। এখানে কোনও মতবিরোধ নেই। একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তদন্তের মাঝে হঠাৎ করে ঢুকে পড়লেন। এটা কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন না। এভাবে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যায় না। এভাবে গণতন্ত্রেরমুখ বন্ধ করা যায় না।” (I-PAC Case)

এদিন আদালত আরও জানায় যে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এমন কার্যকলাপের ফলে গোটা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এই মুহূর্তে ঝুঁকির মুখে। মুখ্য়মন্ত্রীর এমন আচরণ গণতন্ত্রের পক্ষে ঠিক নয় বলে জানান বিচারপতি মিশ্র। পাশাপাশি তিনি জানান, এ রাজ্যের বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা যে সওয়াল করছেন, তাতে বিআর অম্বেডকরের কথা উঠে আসছে। বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আপনারা বিশিষ্ট মানুষজনের চিন্তাধারার উল্লেখ করছেন, যাঁরা সংবিধানের প্রণেতা, যাঁরা সংবিধানকে সমৃদ্ধ করেছেন…তাঁরা হয়ত কখনও চিন্তাই করতে পারেননি যে একদিন এমন অবস্থা আসবে, একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের মাঝখানে ঢুকে পড়বেন এবং হস্তক্ষেপ করবেন।”

আদালত আরও বলে, “সুপ্রিম কোর্টকে এই ধরনের মন্তব্য করতে বাধ্য করবেন না। সুপ্রিম কোর্ট যখন কোনও ঘটনার বিচার হয়, রায়দান করা হয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচার-বিবেচনা করে তার পরই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেন।” শুনানি চলাকালীন SIR এবং মাথাবাড়ির প্রসঙ্গও ওঠে। সাত বিচারককে আটকে রাখা এবং কার্যত আক্রমণের যে অভিযোগ, তাও উঠে আসে আদালতে। তাতে বিচারপতিরা বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SIR প্রক্রিয়া হচ্ছে। জুডিশিয়াল অফিসাররা বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। আর আপনারা বলছেন, ইডি আধিকারিকদের উচিত ছিল ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে গিয়ে অভিযোগ করা। একটা বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অধিকারিকরা যখন কর্তব্য পালন করছেন, তদন্ত করছেন, সেই সময় তাঁদের উপর হামলা হল। তাতে রাজ্যের তরফে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে বলা কতটা যুক্তিযুক্ত?”

আজ আদালতে সওয়া করেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্টের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, যে ধারায় আবেদন করা হয়েছে, তা যাতে গ্রহণ করা না হয় আবেদন জানানো হয়। আদালতে এদিন মেনকা আম্বেডকর, কিছু স্বাধীনতার আগের কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন। তাতে আদালত বলে, “আম্বেডকর, ইতিহাসের কথা বলছেন। কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। সংবিধান প্রণেতারা ভাবেননি কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত করবে আর মুখ্য়মন্ত্রী এসে বাধা দেবেন।” সিদ্ধার্থ লুথরা জানান, প্রথমে হাইকোর্টে যাওয়া উচিত হয়নি। তদন্তকারীদের উচিত ছিল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাওয়ার। আর তাতেই মোথাবাড়ির প্রসঙ্গ উঠে আসে। আদাতল জানায়, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি কী, সেব্যাপারে অবগত। বিচারপতিদের চোখ বন্ধ নেই। অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানে আদালত। সেটাও দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করতে হয় আদালতকে। এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে চোখ বন্ধ করে থাকা যায় না।

গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাড়িতে এবং সল্টলেকে সংস্থার দফতরে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়লা পাচার মামলায় সংযোগ থাকাতেই তল্লাশি বলে জানানো হয়। সেই সময় প্রথমে প্রতীক জৈনর বাড়িতে পৌঁছন মমতা। সেখান থেকে কিছু নথি, ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। এর পর সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকেও কাজগজপত্র তোলা হয় গাড়িতে। মমতার দাবি ছিল, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী তালিকা-সহ SIR সংক্রান্ত কাজের নথি হস্তগত করতে পাঠানো হয়েছিল ইডি-কে। এর পাল্টা, ইডি-র তরফে মমতার বিরুদ্ধে তদন্তে বাধাদান, ‘ডাকাতি’র অভিযোগ তোলে ইডি। 

Post Comment

You May Have Missed