অভিষেক শর্মার শতরান ও মালিঙ্গার বোলিংয়ে DC-কে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করল SRH

অভিষেক শর্মার শতরান ও মালিঙ্গার বোলিংয়ে DC-কে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করল SRH

হায়দরাবাদ: মরশুমের শুরুটা নড়বড়েভাবে করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে প্রাথমিক সমস্যা কাটিয়ে তড়তড়িয়ে ছুটছে সানরাইজার্সের বিজয়রথ। সঠিক কম্বিনেশনে খুঁজে দুরন্ত ছন্দে দেখাচ্ছে ‘অরেঞ্জ আর্মি’কে। দিল্লি ক্যাপিটালসকে (SRH vs DC) ৪৭ রানে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক সারল নবাবের শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি। সানরাইজার্সের জয়ের নেপথ্যে অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ও ঈশান মালিঙ্গা (Eshan Malinga)। ব্যাট হাতে অভিষেক অনবদ্য শতরান হাঁকালেন আর বোলিংয়ে চার উইকেট নিলেন ঈশান মালিঙ্গা। এই দুইয়ের পারফরম্যান্সে ভর করেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ লিগ তালিকায় তিন নম্বর স্থানে উঠে এল। 

বিগত দুই ম্যাচ ধরেই বল হাতে বেশ নজরকাড়া পারফর্ম করছিলেন ঈশান মালিঙ্গা। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে দুই উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, সিএসকের বিরুদ্ধে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন তিনি। আর এই ম্যাচে চার উইকেট নিলেন তিনি। এদিন শুরুতেই পাথুম নিশাঙ্কাকে তাঁর স্বদেশীয় দিলশান মধুশঙ্কার শিকার হন। ২১ রানে ভাঙে ওপেনিং পার্টনারশিপ। তারপরে অবশ্য কেএল রাহুল এবং নীতীশ রানা দিল্লির ইনিংস ভালভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ২৭ বলে অর্ধশতরানও হাঁকান নীতীশ রানা। তবে রাহুলকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন সাকিব হোসেন। ৩৭ রানে আউট হন তিনি।

এরপরেই বল হাতে দিল্লিকে জোড়া ধাক্কা দেন ঈশান মালিঙ্গা। পরপর দুই বলে নীতীশ রানাকে ৫৭ রানে ও ডেভিড মিলারকে খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরান মালিঙ্গা। ছন্দ হারায় ক্যাপিটালসের ইনিংস। সমীর রিজ়ভি ও ট্রিস্টান স্টাবস খানিকটা চেষ্টা করেন, অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও গড়েন, তবে তা কাঙ্খিত রান রেটের তুলনায় অনেকটাই কম গতিতে ছিল। ফলে দিল্লি ইনিংস দেখে কোনও সময়ই মনে হয়নি তারা ম্যাচ জিততে পারবে। শেষমেশ হলও তাই। নয় উইকেটে ১৯৫ রানে থামে দিল্লি ক্যাপিটালসের ইনিংস। দুরন্ত জয় পায় সানরাইজার্স।

এর আগে প্রথম ইনিংসে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক অক্ষর পটেল। ট্র্যাভিস হেড ২৬ বলে ৩৭ রান করে প্যাভিলিয়ন ফিরলেও অভিষেককে আটকাতে পারেননি দিল্লির বোলাররা। ঈশান কিষাণ নন স্ট্রাইকার এন্ডে থেকে অভিষেকের ইনিংসটি উপভোগ করছিলেন। নিজে ১৩ বলে ২৫ রান করে দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে যান। ২টো বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সানরাইজার্স ক্যাপ্টেন। তিনি ফিরলে হেনরিখ ক্লাসেন এসে যোগ দেন সানরাইজার্স শিবিরে। অভিষেক উল্টোদিকে রণংদেহি মেজাজে ব্যাটিং করেই যাচ্ছেন। ৪৭ বলে নিজের শতরান পূরণ করেন অভিষেক। দিল্লির কোনও বোলারই থামাতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনারকে। 

শেষমেশ ১৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন অভিষেক। অপরপ্রান্তে ক্লাসেনও ছোট্ট তবে গুরত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তিনি ১৩ বলে ৩৭ রান করেন। দুই উইকেটে ২৪২ রান তোলে সানরাইজার্স। ইনিংসের মাঝপথে অভিষেক দাবি করেছিলেন তাঁরা কিছু রান কমই করেছেন। তবে শেষমেশ এই রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট বলে প্রমাণিত।  

Post Comment

You May Have Missed