ইডেনে কেকেআরের নাটকীয় জয়ের নায়ক, ম্যাচের শেষে মাঠেই কেন কেঁদে ফেললেন রিঙ্কু?

ইডেনে কেকেআরের নাটকীয় জয়ের নায়ক, ম্যাচের শেষে মাঠেই কেন কেঁদে ফেললেন রিঙ্কু?

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। রাজস্থান রয়্যালসের পেসার ব্রিজেশ শর্মার প্রথম ২ বলে জোড়া বাউন্ডারি মেরে ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেন তিনি। ম্যাচ সেই মুহূর্তে টাই। পরিবর্তিত সমীকরণ দাঁড়ায়, জয়ের জন্য ৪ বলে চাই এক রান। তৃতীয় বলে রান নেননি রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh)। চতুর্থ বলে হুক করে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ফেলে দিলেন বাউন্ডারির বাইরে। ছক্কা মেরে জোড়া আনন্দ – দলের জয় আর নিজের হাফসেঞ্চুরি। গোটা ইডেন গার্ডেন্স তখন ‘রিঙ্কু, রিঙ্কু’ জয়োধ্বনিতে মুখরিত।

তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে তুলে সেলিব্রেট করলেন। কেকেআর ডাগ আউট থেকে তখন ক্রিকেটারেরা দৌড়ে মাঠে ঢুকে রিঙ্কুকে জড়িয়ে ধরে সেলিব্রেশন শুরু করে দিয়েছেন। মাঝে মধ্যে দেখে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল, কেকেআর কি আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল? সাধারণত টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেই ডাগ আউট থেকে এরকম দৌড়ে মাঠে ঢোকার দৃশ্য দেখা যায়।

রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে চার উইকেটে জয় যেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই ফুরফুরে হাওয়া বয়ে আনল নাইট শিবিরে। হারিয়ে যেতে বসা বিশ্বাস, যে আমরাও জিততে পারি, সেটাই যেন ফিরে পেল রাজস্থানকে হারিয়ে। প্লে অফ যে এখনও সম্ভব, সেই স্বপ্নের বীজ বুনে দিলেন কেকেআরের নতুন সহ অধিনায়ক রিঙ্কু।

আর স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নিজে মাঠেই কেঁদে ফেললেন। ডাগ আউটের দিকে এগিয়ে গেলেন। সেখানে তখন কোচ অভিষেক নায়ার দাঁড়িয়ে। জয়ের দুই কারিগর – রিঙ্কু ও অনুকূল রায়কে জড়িয়ে ধরলেন কেকেআরের কোচ। রিঙ্কু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। মাঠেই কাঁদলেন। চোখের জল মুছতে দেখা গেল বেশ কয়েকবার।

ব্যাটিং করার সময় কি কোনও কারণে রেগে ছিলেন? ম্যাচের পরে রিঙ্কু বললেন, ‘মাঝে মধ্যে এরকম হয়, যখন কোনও কিছুই নিজেদের পক্ষে যায় না। চাপটা তখন বোঝা যায়। তবে এমন নয় যে, আমি ইতস্তত করছিলাম বা নিজের শট খেলা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। আমি চেয়েছিলাম ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে। আমার সঙ্গে কোচ ও আমার ব্যাটিং পার্টনার – দুজনেরই কথা হয়েছিল।’

মাত্র ৮ রানে থাকার সময় তাঁর ক্যাচ পড়েছিল। সেখান থেকেই ঘুরে যায় ম্যাচ। রিঙ্কু বলছেন, ‘এটা খেলার অঙ্গ। ভাগ্য আমার সঙ্গে ছিল। ব্যাটিং অর্ডারে আমার কোনও নির্দিষ্ট জায়গা নেই। দলের যখন প্রয়োজন, আমি তখনই ব্যাট করতে প্রস্তুত।’

Post Comment

You May Have Missed