Business Idea: পুজো, যজ্ঞোপবীত সবেতেই মাস্ট! কম খরচের সেই জিনিস বানিয়েই মোটা রোজগার, কুটিরশিল্প-ব্যবসার নয়া দিগন্ত দেখাচ্ছে বীরভূমের শীতলগ্রাম

Business Idea: পুজো, যজ্ঞোপবীত সবেতেই মাস্ট! কম খরচের সেই জিনিস বানিয়েই মোটা রোজগার, কুটিরশিল্প-ব্যবসার নয়া দিগন্ত দেখাচ্ছে বীরভূমের শীতলগ্রাম

Last Updated:

Birbhum Business Idea: পৈতে তৈরিই এখন শীতলগ্রামের মূল পরিচয়। বীরভূমের নলহাটির এই গ্রামটি আজ কুটিরশিল্পে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংসারের কাজের ফাঁকে মহিলারা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন যজ্ঞোপবীত, যা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন প্রান্তে।

+

পৈতে তৈরি করছেন মহিলারা

বীরভূম, সৌভিক রায়: উপনয়ন বা পৈতে এটি সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মানুষদের বৈদিক ও শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে সনাতন ধর্মের ব্রাহ্মণ বালকেরা পৈতে ধারণ করে থাকে। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, পৈতের আরেক নাম ‘যজ্ঞোপবীত’ বা ‘প্রতিজ্ঞা সূত্র’। এই অনুষ্ঠানে তিনটি আলাদা আলাদা সুতো গিট দিয়ে বেঁধে তৈরি হয় পৈতে। পাশাপাশি সনাতন ধর্মের প্রায় প্রত্যেকটি পুজোয় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ পৈতে। সেই পৈতে তৈরি করে গ্রামে সমৃদ্ধি ফেরাচ্ছেন বীরভূম জেলার নলহাটি দুই নম্বর ব্লকের শীতলগ্রামের বাসিন্দা শঙ্কর মহারাজ।

তাঁর কাছে কাজ করে বহু গৃহবধূ আজ স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রামের মধ্যে যেন ছোটখাটো শিল্প গড়ে ফেলেছেন তিনি। ছোট থেকে বাবাকে বাড়িতে পৈতে তৈরি করতে দেখেছেন শঙ্কর মহারাজ। সময়টা ছিল তখন ১৯৮৭ সাল সেই সময় তিনি মাধ্যমিকের ছাত্র। তখন থেকেই পৈতে তৈরি কাজে হাতেখড়ি শঙ্কর বাবুর। জানা যায়, প্রথমে তিনি তাদের একটি জমি বন্ধক দিয়ে পৈতে তৈরির কাজ শুরু করেন। পরে ব্যবসা লাভের মুখ দেখায় সেই জমি ফিরিয়ে নেন। এই কাজ করে তিনি যে শুধুমাত্র বাড়ির সমৃদ্ধি ফিরিয়ে এনেছেন তা নয়, এর পাশাপাশি বহু মহিলারা স্বনির্ভর হয়েছেন।

তবে কী পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই পৈতে! এই বিষয়ে এক গৃহবধূ জানান, “কলকাতা থেকে পৈতে তৈরির সুতো নিয়ে এসে বাড়িতে সাবু ও অ্যারারুট ময়দা দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরে রোদে শুকোতে হয়। এরপর বিভিন্ন প্রকার পৈতে তৈরি করা হয়।” এতে গ্রামের প্রায় ৩০ জন গৃহবধূ হাতে হাত দিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই প্রতিদিন ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেন. সেই পৈতে প্যাকেটজাত হয়ে চলে যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে রামপুরহাট, বোলপুর, মায়াপুর, নবদ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে বীরভূমের এই পৈতে।

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

শীতলগ্রামের গৃহবধূরা জানান, “স্বামীর একার উপার্জনে বর্তমানে এই বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরেই আমরা এখানে পৈতে তৈরিতে কাজে হাত লাগায়। পৈতে তৈরি করে আমরা যা উপার্জন করি তাতে ছেলেমেয়ের পড়াশোনা থেকে নিজেদের হাতখরচা হয়ে যায়। আমরা কেউ ১০ বছর, কেউবা ১৫ বছর ধরে পৈতে তৈরির কাজ করছি। মাসের শেষে কেউ ৫০০০, কেউ ১০০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারি”।

বাংলা খবর/ খবর/ব্যবসা-বাণিজ্য/

Business Idea: পুজো, যজ্ঞোপবীত সবেতেই মাস্ট! কম খরচের সেই জিনিস বানিয়েই মোটা রোজগার, কুটিরশিল্প-ব্যবসার নয়া দিগন্ত দেখাচ্ছে বীরভূমের শীতলগ্রাম

Previous post

Purulia News: পুরুলিয়ার মুকুটে নতুন পালক! বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত সাঁওতালি সাহিত্যিক কলেন্দ্রনাথ মান্ডি, গর্বে বুক ভরছে জঙ্গলমহলের

Next post

Money Making Tips: অভাবের দিন শেষ! ঘরে বসেই মাসে ৩৫ হাজার টাকা আয়! রেশম চাষে কীভাবে স্বনির্ভর হচ্ছেন বাংলার গ্রামের মহিলারা?

Post Comment

You May Have Missed