Kali Puja 2026: গভীর রাতে তন্ত্রমতে হয় পুজো, শান্তিপুরে বোম্বাট কালীর মশালের আলোয় গা শিউড়ে ওঠা দৃশ্য! মাহাত্ম্য জেনে অবাক হবেন
Last Updated:
Kali Puja 2026: ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার ঠিক প্রাক্কালে শান্তিপুরে শুরু হয়েছিল বোম্বাট কালীমাতার আরাধনা। অসামাজিক কাজ রুখতে গঠিত ‘বোম্বাট মিলিটারী গ্রুপ’-এর হাত ধরে শুরু হয় এই পুজো। জানা যায়, আজও আসল নরমুণ্ড রেখে তন্ত্রমতে গভীর রাতে পুজো হয়।
শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: শান্তিপুরের অন্যতম জাগ্রত এবং ঐতিহ্যবাহী পুজো হল বোম্বাট কালীমাতা পুজো। জানা জায় স্বাধীনতার আগের বছর অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে তৎকালীন শান্তিপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ একসাথে এই পুজোর সূচনা করেন। এটি কোনও পাড়া বা মহল্লার ব্যক্তিগত পুজো নয়, বরং সমগ্র শান্তিপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের দ্বারা পরিচালিত পুজো। স্বাধীনতার ঠিক আগের বছর শান্তিপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যখন নানা অসামাজিক কাজকর্ম ও অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন শান্তিপুরের নেতৃত্বস্থানীয় ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের উদ্যোগে ‘বোম্বাট মিলিটারী গ্রুপ’ তৈরি হয়।
এই গ্রুপের মাধ্যমেই তখনকার অস্থির পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং তারা তাতে সফল হন। এই পুজোর নিয়ম-নীতি অন্যান্য পাঁচটা পুজোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে গভীর রাতে তন্ত্রমমতে পুজো হয়। মায়ের প্রতিমার কাঠামো দেখলেই বোঝা যায় যে অন্যান্য প্রতিমার থেকে এর গঠনতন্ত্র সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর মূল ভিত্তি শিব ঠাকুরের বুকের ওপর অবস্থিত। শিব ঠাকুরের বুক ও রূপ সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর পুজোও ভিন্ন মতে হয়। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বামা মায়ের পুজো ও নাচ বিশ্ববাসী দেখতে পান। ভক্তরা তাঁকে প্রণাম জানান। বহু বছর পরে এই স্বপ্নাদেশেই সেখানে পুজোর সূচনা হয়েছিল।
শান্তিপুরের ‘ডাকাতে কালী’ বা বোম্বাট কালীর মশালেরও এক ঐতিহাসিক উৎপত্তি রয়েছে। প্রতিবছর আইনের মেনে এই পুজোর সময় মশাল বের হয়। বর্তমান বিধায়ক স্বপন কুমার দাসের সহযোগিতাও এই পুজোয় রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমানে নরমুণ্ডগুলি সম্পূর্ণ আসল এবং সেই সময়ের পুজোর শুরু থেকেই এই আসল নরমুণ্ড রেখেই তন্ত্রমমতে মায়ের আরাধনা ও পুজো হয়ে আসছে। যাতে শান্তিপুরকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করা যায়।

Post Comment