নির্বাচনে পরাজিত হয়ে পালিয়ে গেলেন বলসোনারো? ব্রাজিলের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল আদালত

নয়াদিল্লি: নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ব্রাজিলের সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। মঙ্গলবার রাতে তিনি আমেরিকা পৌঁছন বলে প্রথমে খবর ছড়ায়। আমেরিকা বিদেশ বিভাগও জানিয়ে দেয় যে, বলসোনারো এবং তাঁর পরিবারকে ভিসা দিতে প্রস্তুত তারা। তবে সংবাদ সংস্থা AFP জানিয়েছে, আপাতত ইকুয়েডর যাচ্ছেন বলসোনারো। আর্জেন্টিনা সরকারও সেই খবরে সিলমোহর দিয়েছে। (Flavio Bolsonaro Leaves Brazil)

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বামপন্থী লুইজ় ইনাচিও লুলা ডা সিলভার। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন দক্ষিণপন্থী বলসোনারো। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পরই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেই নিয়ে চর্চার মধ্যেই ব্রাজিল ছাড়েন বলসোনারো। (Brazil Elections)

আরও পড়ুন: ‘২ কোটি টাকার সুপারি কে দিল, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে এসেছিল, না কালীঘাট থেকে…’, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী

আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ডিরেক্টোরেট অফ মাইগ্রেশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন বলসোনারো। এর পর সেখান থেকে ইকুয়েডরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বৈধ কাগজপত্র নিয়েই বলসোনারো আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। ব্রাজিলের আদালত যদিও তাঁর দেশের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল।

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সি বলসোনারো, তাঁর স্ত্রী এবং দুই কন্যা আর্জেন্টিনার বিমান সংস্থা Baires Fly S.A-র একটি প্রাইভেট বিমানে চেপে ব্রাজিল ছাড়েন। বিমানটি ইকুয়েডর যাচ্ছে। Flightradar24-এর তথ্য বলছে, মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা ছাড়ে বিমানটি। ওই বিমান সংস্থা এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি। 

আরও পড়ুন: TATA গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে? এবার ঝাঁঝাল আক্রমণে রাহুল গাঁধী, সরাসরি মোদি-শাহের দিকে আঙুল

একদিন আগে, আমেরিকার সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল বলসোনারো সেদেশেই নামতে পারেন। বলসোনারো এবং তাঁর পরিবারকে ভিসা দিতে সমস্যা নেই বলে জানায় দেশের সরকারও। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত বলেন, “আমি অনুমতি দিয়ে দিতাম। ওঁরা ভাল মানুষ। নির্বাচনটাই অদ্ভুত হয়েছে। ওঁর বাবার প্রতিও অবিচার হয়েছিল। তবে আমি কোনও কিছুতে নেই। ব্রাজিল আলাদা দেশ।” তবে বলসোনারো আর্জেন্টিনায় নেমেছেন বলে খবর পৌঁছেছে তাঁর কাছেও।

ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট যদিও আগেই বলসোনারোর দেশের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল। দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের মামাল চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। নির্বাচনে পরাজয়ের অর্থ সংসদীয় রক্ষাকবচও আর পাবেন না তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি বলসোনারো। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত গাড়িঘোড়া না থাকায় বহু মানুষ বুথে পৌঁছতে পারেননি বলে দাবি তাঁর। নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন করানোর দাবিও তোলেন তিনি। দেশের সুপ্রিম কোর্ট যদিও ভোটদানের সময়সীমা দু’ঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়েছিল। 

সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলসোনারোকে পাসপোর্টও জমা করতে বলা হয়েছিল। তবে সেসব না করেই দেশ ছেড়েছেন বলসোনারো। তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Previous post

‘২ কোটির সুপারি কে দিল, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে, না কালীঘাট থেকে…’, চন্দ্রনাথ-হত্যা নিয়ে শুভেন্দু

Next post

সিরিজ জয় সম্পন্ন, চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে রিজার্ভ বেঞ্চ পরীক্ষার পালা, হতে পারে চারটি পরিবর্তন

Post Comment

You May Have Missed