Money Making Tips: অবসর সময়ে মহিলাদের রোজগারের পথ দেখায়, তারপরও কেন মুখ ভার শিল্পীদের ?
Last Updated:
Money Making Tips: অবসর সময়ে কাজ করেই বাড়তি রোজগারের সুযোগ পান বহু মহিলা। এই শিল্প তাঁদের স্বনির্ভর হওয়ার পথ দেখালেও কেন হতাশ শিল্পীরা? কী কী সমস্যার মুখে পড়ছেন তাঁরা, জেনে নিন বিস্তারিত।
উত্তর ২৪ পরগনা: দুর্গাপুজোর প্রতিমা বিসর্জনের পরেই শুরু হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাংলার মানুষ। আর মূলত এই উৎসবের জন্যই সারা বছর কর্মসংস্থান মেলে জগদ্দল বিধানসভার কেউটিয়া এলাকার গ্রামের মানুষদের।
সোলার কদম ফুল, মালা-সহ নানা সামগ্রী তৈরির জন্য পরিচিত এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সারা বছর ধরে চলে শোলার কাজ। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে এখানেই তৈরি সোলার কদম ফুল পৌঁছে যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে চাহিদা বাড়লেও পরিশ্রমের তুলনায় উপযুক্ত পারিশ্রমিক মেলে না বলে আক্ষেপ শিল্পীদের।
গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে শোলার কাজ শুধুমাত্র পেশা নয়, বরং বংশপরম্পরায় চলে আসা কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য। পরিবারের মহিলারা থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যরাও এই কাজে যুক্ত। শোলা সংগ্রহ করা, তা কেটে বিভিন্ন আকার দেওয়া এবং যত্ন সহকারে ফুল তৈরি সব মিলিয়ে রয়েছে দীর্ঘ পরিশ্রমের ধাপ। দুর্গাপুজোর দশমীর সময় বাড়ির দরজায় সাজানোর জন্য ব্যবহৃত কদম ফুলের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুজোতেও এই ফুলের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ফলে বিশ্বকর্মা পুজোর আগে থেকেই পুরোদমে শুরু হয় উৎপাদন।
উৎসবের মরশুমে তৈরি ফুলের বড় অংশই পাইকারদের হাত ধরে পৌঁছে যায় বিভিন্ন দোকানে। গ্রামের শিল্পী রীতা বিশ্বাসের কথায়, আগের তুলনায় সোলার কদম ফুলের চাহিদা বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে বাড়েনি কারিগরদের উপার্জন। তাঁর দাবি, বর্তমানে এক হাজার কদম ফুলের জন্য কারিগররা প্রায় ৮,০০০ থেকে ৮,৫০০ টাকা পান। অন্যদিকে, পাইকারী বিক্রেতারা সেই ফুল দোকানে সরবরাহ করেন প্রায় ১২,০০০ থেকে ১৩,০০০ টাকায়। ফলে উৎপাদনের মূল পরিশ্রম যাঁদের, তাঁদের তুলনায় মাঝখানের ব্যবসায়ীদের লাভের অঙ্ক বেশি থাকে। শোলার দামও কম নয়। এক আঁটি শোলা কিনতেই খরচ হয় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এরপর সেই শোলা কেটে, ছেঁটে ফুল তৈরির উপযোগী করতে হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেও শ্রমের উপযুক্ত মূল্য মেলে না। তবুও পরিবারের মহিলারা সারা বছর এই কাজ চালিয়ে যান। উৎসবের মরশুমে কিছুটা বাড়তি আয়ের আশাতেই তাঁদের এই পরিশ্রম। শিল্পীদের মতে, দশমী থেকে লক্ষ্মীপুজো এই সময়টাতেই সোলার কদম ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা এই পেশাতে আসুক পাশাপাশি তাদের তৈরি শিল্পকর্ম সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করা হলে মিলতে পারে বাড়তি লাভ এখন সেই আশাতেই বুক বাঁধছে সোলা গ্রাম।
Post Comment