North East Railway: উত্তর-পূর্বে রেল পরিকাঠামোয় জোর, চলতি অর্থবর্ষে ৮টি রোড ওভারব্রিজ চালুর নির্দেশ
Last Updated:
পরিদর্শনকালে রেললাইনের অবস্থা, সেতু, চলমান নির্মাণকাজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি। পাশাপাশি, প্রকল্পগুলির কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
উত্তর-পূর্ব ভারতে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একাধিক রেলপথ পরিদর্শন করলেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ)-এর জেনারেল ম্যানেজার আশীষ বনসাল। বদরপুর থেকে আগরতলা, আগরতলা থেকে নিশ্চিন্তপুর এবং আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেলপথে উইন্ডো ট্রেলিং পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেললাইনের অবস্থা, সেতু, চলমান নির্মাণকাজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি। পাশাপাশি, প্রকল্পগুলির কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
পরিদর্শনের সময় কুমারঘাট–আগরতলা রেলপথে রোড ওভারব্রিজ (ROB) নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন আশীষ বনসাল। লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমানো, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে। কুমারঘাট–আগরতলা প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত এস্টিমেটের অধীনে মোট ২৩টি রোড ওভারব্রিজ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির নির্মাণকাজের বরাত দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলছে। চলতি অর্থবর্ষে আটটি রোড ওভারব্রিজ চালু করার পাশাপাশি আরও তিনটির রেলওয়ে অংশের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বাকি ওভারব্রিজগুলির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার। বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণ এবং অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দফতর (PWD) তিনটি এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL) একটি রোড ওভারব্রিজ নির্মাণ করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। যেসব প্রকল্পে এখনও নির্মাণকারী সংস্থা নিয়োগ করা হয়নি, সেগুলিতে আল্ট্রা-হাই-পারফরম্যান্স কংক্রিটের (UHPC) মতো আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছেন তিনি।
এ ছাড়াও, আগরতলা–আখাউড়া আন্তঃসীমান্ত রেল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন আশীষ বনসাল। নিশ্চিন্তপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করে অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি, যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু করা যায়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলির যোগাযোগ বাড়িয়ে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে এই প্রকল্পে।
আগরতলা–সাব্রুম রেলপথ পরিদর্শনের সময় রেল পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজও খতিয়ে দেখেন জেনারেল ম্যানেজার। রেল সম্পদের সুরক্ষা, পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।
অন্যদিকে, ময়নারবন্দ–আগরতলা রেলপথের ডাবলিং সমীক্ষার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন আশীষ বনসাল। এই প্রকল্পের ফাইনাল লোকেশন সার্ভে (FLS) সম্পন্ন হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) অনুমোদনের জন্য রেলওয়ে বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ডাবলিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের চাহিদা সামাল দেওয়ার পাশাপাশি রেলপথের বহনক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য চলমান পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির কাজের গতি বাড়ানো, রেল নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এর ফলে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে

Post Comment