হড়পা বানে ভয়াবহ অবস্থা নেপালে, নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়, ক্রমশ বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, জোরকদমে উদ্ধারকা

নেপাল : হড়পা বানে ভয়াবহ অবস্থা নেপালে। শতাধিক ভারতীয় নিখোঁজ। ইতিমধ্যেই বহুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। চলছে উদ্ধারকাজ। সেনার তরফে জানানো হয়েছে উদ্ধারকাজে নেমেছে ১৫টি হেলিকপ্টার। কৈলাস যাত্রার প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর মধ্যে ১০৫ থেকে ১৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর। ইতিমধ্যেই ৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ বলে খবর। কিছুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শোনা যাচ্ছে ২৯ জনের মতো দুর্গতকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারত সবরকমভাবে নেপালের পাশে রয়েছে, সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হড়পা বানে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে রাস্তা, ব্রিজ, বাড়িঘর, – প্রায় সব কিছুই। 

অতিবৃষ্টিতে তিব্বতে ভাঙল বাঁধ। ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ল নেপাল। হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান-সহ নেপালের ৬টি জেলা। জলস্রোতে ভেসে গিয়েছে একাধিক সেতু ও বাড়ি। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ, বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। গণ্ডক নদীতে আসতে পারে জলের স্রোত, সতর্ক বিহার প্রশাসন। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই বিপর্যয়? সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে নেপালের পড়শি দেশ চিনে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তিব্বতের জলাধারগুলিতে জলের পরিমাণ বাড়ছিল। সূত্রের খবর, বুধবার সকালে একটি জলাধার ভেঙে গেলে প্রচুর পরিমাণ জল নেমে আসে ভূতকোশি নদী দিয়ে। 

ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল, মৃত্যু বহু, হাই অ্যালার্ট জারি বিহার ও উত্তরপ্রদেশে, কারণ কী ? 

এ যেন পাহাড়ের কোলে বিস্ফোরণ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুদূতের মতো ধেয়ে এল বিপর্যয়। কাগজের মতো ভেসে গেল কংক্রিটের সেতু। কাদা-জল-পাথরের স্রোতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাড়ি। ভেসে গেল গাড়ি। ২০১৫-র ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরল ২০২৬-এ। জলপ্রলয়ে বিপর্যস্ত হল নেপাল। হড়পা বাণে বিধ্বস্ত নেপালে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। বুধবার সকালে নেপালের ওই এলাকায় বৃষ্টির চিহ্নমাত্র ছিল না। ঝলমলে রোদের সঙ্গে ছিল ঝকঝকে নীল আকাশ। তখন সকাল ৯টা। সপ্তাহের কাজের দিনে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়ের রানি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ তীব্র গুড়গুড় শব্দ শুনতে পান তাঁরা। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, বিস্ফোরণের ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে নেমে আসছে জলের স্রোত। প্রশাসন সূত্রে খবর, তিব্বত থেকে নেমে আসা ভূতকোশি নদীর জলস্তর আচমকা বৃদ্ধি পায়। হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে হড়পা বাণ। 

Previous post

Census 2027: সময়ের বহু আগেই জনগণনার কাজ শেষ, কালনায় ‘ফার্স্টবয়’ এই স্কুল শিক্ষক! SIR-এ সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে পেয়েছেন পুরস্কার

Next post

Birbhum News: ভালবাসার প্রমাণ রাখতে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বাড়তি উন্মাদনা, ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ি সৌন্দর্য

Post Comment

You May Have Missed