আমেরিকার বায়ুসেনার বিমান হঠাৎই রাশিয়ায় ঢুকে পড়ল, সওয়ার ছিলেন CIA প্রধান, গোপন বৈঠক?
নয়াদিল্লি: বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ রাশিয়ায় ঢুকে পড়ল আমেরিকার বায়ুসেনার বিমান। মঙ্গলবার মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে নামে সেটি। আমেরিকার বিমান নিয়ে তাদের কাছে কোনও খবর ছিল না বলে প্রথমে দাবি করে রাশিয়া। যদিও পরে জানা যায়, আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা CIA-র ডিরেক্টর সওয়ার ছিলেন বিমানে। সেখানে জরুরি বৈঠক করতে গিয়েছিলেন তিনি। (CIA Plane in US)
বিমানের গতিবিধির উপর নজরদারি রাখে যে সংস্থা, সেই Flightradar.24 প্রথম বিষয়টি সামনে আনে। তারা জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সংয় সকাল ৭টা নাগাদ মস্কোয় অবতরণ করে আমেরিকার বায়ুসেনার Boeing C17A Globemaster 3 বিমানটি। আমেরিকার কূটনীতিকদের গাড়িও দেখা যায় সেখানে। রাশিয়া এবং আমেরিকা, দুই দেশের তরফে আকস্মিক ওই সফর নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম আসল কারণ খোলসা করেছে। (US-Russia Relations)
আরও পড়ুন: আমেরিকায় মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, এবার মুখ খুললেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানিও
CNN জানিয়েছে, গুপ্তচর সংস্থা CIA-র ডিরেক্টর জন ব়়্যাটক্লিফ বিমানে সওয়ার ছিলেন। কোনও রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই মস্কো পৌঁছন তিনি। রাশিয়ার শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আমেরিকা সরকারের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে বিষয়টি সামনে এনেছে CNN. তবে হঠাৎ কী বৈঠক করতে মস্কো উড়ে গেলেন CIA প্রধান, তা খোলসা করেননি ওই আধিকারিক।
CIA প্রধানের মস্কো সফরের আগে আমেরিকার তরফে রাশিয়াকে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি CNN-এর। তারা জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। কিছু ক্ষণের জন্য মস্কো এবং রাশিয়ার উত্তরের শহরগুলিতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ বন্ধ রাখতে বলা হয় কিভ-কে। সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয় আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এই প্রথম CIA প্রধানের রাশিয়া সফরের খবর প্রকাশ্যে চলে এল। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধসমাপ্তি নিয়ে বৈঠক আপাতত স্থগিত হয়ে গিয়েছে। একদিন আগে আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট ‘Operation Economic Outcast’ প্রকল্পেরও ঘোষণা করেন, যার আওতায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমেরিকার চোখরাঙানি উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে রাশিয়াও।
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আমেরিকার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস থেকে ওড়ে বায়ুসেনার বিরুদ্ধে। আবার লাটভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, দেশের রাজধানী রিগা হয়ে ওড়ার সময় তাদের আকাশসীমায় ঢোকা নিয়েও যোগাযোগ করা হয়। তবে বিশদ কিছু খোলসা করা হয়নি। CBS জানিয়েছে, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার তরফে রিপোর্ট জমা পড়েছে যে, NATO-র বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা দিকে এগোচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তা আঁচ করেই CIA প্রধান মস্কোর সঙ্গে বৈঠক করতে যান কি না, উঠছে প্রশ্ন।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে যে বন্দি বিনিময় ঘটে, তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল CIA. আমেরিকা এবং রাশিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কেসেনিয়া কারেলিনার মুক্তিতে ব্যক্তিগত ভাবে মধ্যস্থতা করেন ব়্যাটক্লিফ। ২০২৪ সালে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’র সাংবাদিক ইভান গেরশকোভিচ এবং যোদ্ধা পল হোয়েলানের মুক্তিতেও CIA যুক্ত ছিল। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে মস্কো সফরে গিয়েছিলেন CIA-র প্রাক্তন ডিরেক্টর উইলিয়াম বার্নস। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে সেবার সরাসরি পুতিনের সঙ্গে কথা হয় তাঁর।
JU Chaos : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তাণ্ডব, অবশেষে রেজিস্ট্রারের ঘরে পুলিশ
Post Comment