তৃণমূলের দুই শিবিরকে সভায় অনুমতি দিল আদালত, জমায়েতে দেওয়া হল এই শর্ত…
কলকাতা: দুই তৃণমূলকেই সভার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দলের ছাত্রপরিষদ TMCP-র প্রতিষ্ঠাদিবসে ২৮ অগাস্ট সভার অনুমতি দিল আদালত। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-কে সভার অনুমতি দেওয়া হল। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-কে সভার অনুমতি দিল আদালত। ১৫০০ হাজার সমর্থক নিয়ে কর্মসূচির অনুমতি হাইকোর্টের। দুপুর ১২-৩টে পর্যন্ত সভার অনুমতি। দুই রাস্তারই একদিক খোলা রেখে সভার অনুমতি দেওয়া হল। (TMC Foundation Day Rally News)
২৮ অগাস্ট অর্থাৎ শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের দুই শিবির। দুই শিবিরকেই সভা করার অনুমতি দিল আদালত। বলা হয়েছে, ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র যে অংশ ছাত্রদিবস পালন করতে চান, ২১ জুলাইয়ের মতোই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে অর্থাৎ ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর আর অ্যাভিনিউয়ে সভা করতে পারবে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। দুই শিবিরই সর্বাধিক ১৫০০ সংর্থক নিয়ে সভা করতে পারবে। (TMC News)
এদিন আদালত জানায়, ২১ জুলাইও তৃণমূলের দুই শিবিরকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাই এবারও সভায় অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের দুই শিবিরই মেয়ো রোডে গাঁধীমূর্তির পাদদেশে TMCP-র প্রতিষ্ঠাদিবস পালন করতে অনুমতি চায়। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের হয়ে আবেদন করেন প্রিয়াঙ্কা অধিকারী। ওই একই জায়গায় TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের সুদীপ রাহাও।
নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে ২৮ অগাস্ট ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরকে মেয়ো রোডে অনুমতি না দেওয়ার আবেদন জানায় ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। মমতা আবার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমরা মিটিং করতে আদালেত গিয়ে অনুমতি চাইতে হচ্ছে কেন? ভারতে সংবিধান, গণতন্ত্র নেই? কেন আন্দোলন করতে পারব না আমরা? কেন মিটিং করতে পারব না? ডেকরেটরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে মাইকম্যানকে। হোটেল ভাড়া নিতে চাইলে হোটেলের মালিককেও ভয় দেখানো হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: Hijab Row: ‘ইসলামে হিজাব অপরিহার্য নয়’, বলল আদালত, খারিজ হয়ে গেল মুসলিম ছাত্রীর আবেদন
বছর বছর মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির কাছে TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করে আসছে তৃণমূল। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর, রাজ্যের পরিস্থিতি বদলেছে।শুধু বিজেপি-র কাছে পর্যূদস্ত হওয়াই নয়, ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সেই পরিস্থিতিতে সভা-সমিতি করা নিয়েও দ্বন্দ্ব বাধছে। প্রতি ক্ষেত্রেই প্রায় আদালতে যেতে হচ্ছে দুই শিবিরকে।
Suvendu Adhikari: ‘ক্যাম্পাসে এভাবে দেশবিরোধী কাজ চলতে দেওয়া যাবে না’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
Post Comment