গান করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ কবীর সুমন, কেমন হল প্রভাত রায়ের নতুন ছবির রেকর্ডিং? জানাচ্ছেন একতা

তোর্ষা ভট্টাচার্য, কলকাতা: দীর্ঘদিন পরে পরিচালনায় ফিরছেন, প্রভাত রায় (Prabhat Roy)। তবে পূর্ণদৈর্ঘ্যের নয়, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি দর্শকদের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে আসবেন বর্ষীয়ান পরিচালক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Thakur) সেই চিরপরিচিত গল্প, ‘বলাই’-কে এবার পর্দায় নিয়ে আসছেন প্রভাত রায়। সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন, একতা ভট্টাচার্য (Ekta Bhattacharjee)। আর এই ছবিতে সঙ্গীত পরিচালকের ভূমিকা পালন করবেন, কবীর সুমন (Kabir Suman)। ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবিতে প্রভাত রায়ের পরিচালনায় সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন কবীর সুমন। এরপরে অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গিয়েছে, ফের একবার প্রভাত রায়ের সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি… এই ইচ্ছা একতার কাছেই জানিয়েছিলেন তিনি। বহু পরিকল্পনা, চেষ্টার পরে, অবশেষে এই ‘বলাই’-এর জন্য ২টি গান রেকর্ডিং করলেন কবীর সুমন। 

প্রভাত রায় পরিচালিত ‘বলাই’-এর জন্য গান রেকর্ড করলেন কবীর সুমন

এবিপি লাইভ বাংলাকে একতা জানিয়েছেন, আজ ২টি গানের রেকর্ডিং হয়েছে। একটি নতুন গান, ছবির জন্যই তৈরি। অপরটি রবীন্দ্রসঙ্গীত, তবে সেই গানটি এর আগে কখনও রেকর্ডিং করেননি কবীর সুমন। ফলে ২টি গানই এই প্রথম শোনা যাবে কবীর সুমনের গলায়। দীর্ঘদিন পরে একসঙ্গে কাজ করতে এসে, আবেগে ভেসেছেন কবীর সুমন এবং প্রভাত রায়, ২ জনেই। ‘সেদিন চৈত্রমাস’-এর স্মৃতিচারণাও উঠে এল তাঁদের কথায়। কবীর সুমন নিজেই প্রভাত রায়ের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন। সেটি সম্ভব হওয়ায়, খুশি ২ প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী এবং পরিচালক। 

গোটা রেকর্ডিং সেশনেই উপস্থিত ছিলেন একতা, কী অভিজ্ঞতা হল তাঁর? কথা বলতে গিয়ে একতার গলায় আবেগ, বললেন, ‘আমি কখনও কারও কাছে কিছু চাইতে পারিনি। কিন্তু খুব ইচ্ছা ছিল, একটা রেকর্ডিং সেশন সামনে থেকে দেখার। এই প্রথম কোনও রেকর্ডিং সেশনে উপস্থিত থাকলাম। তবে শুধু রেকর্ডিং সেশনে উপস্থিত থাকাই নয়, ছবির সঙ্গে আমারও একটা নিবিড় যোগ রয়েছে। পাঠ্য বইতেই প্রথম ‘বলাই’ গল্পটা পড়ি, ভীষণ ভাল লেগে যায়। কিন্তু তখনও তো জানতাম না, আমার কখনও প্রভাত রায়ের দেখা হবে, তাঁকে আমি এই ছবিটা পরিচালনা করার কথা বলতে পারব। গোটাটাই আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়।’

একতা আরও বললেন, ‘কবীর সুমন যে রবীন্দ্রসঙ্গীতটি রেকর্ডিং করেছেন, সেটি নাকি তিনি কখনও রেকর্ডিং করেননি। কারণ গানটি গাইলেই নাকি তিনি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আজও রেকর্ডিং করতে গিয়ে অনেকবার থেমে গিয়েছেন। তবে উনি নিজেই কাজ করতে চেয়েছিলেন, আর তাই ভীষণ খুশি হয়েছেন। এই কাজটা যে আমি করে দিতে পারলাম, সেটা আমার কাছে একটা বিশাল বড় পাওয়া। এত বছর আগে কাজ করেছেন একসঙ্গে, কিন্তু আজও যে সম্মানটা ওঁদের মধ্যে রয়েছে, সেটা সত্যিই শেখার।’

 

আরও পড়ুন: Dev: স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট মেলেনি, ধার চোকাতে হিমশিম কৃষক পরিবার! সুদীপ্তার ডাকে পাশে থাকার আশ্বাস দেবের

Post Comment

You May Have Missed