১০০ বছরের বেশি পুরনো হিন্দু-মন্দির ভেঙে ফেলা হল পাকিস্তানে ! একজোট হয়ে প্রতিবাদ সংখ্যালঘুদের
সংখ্যালঘুদের অধিকার যে পাকিস্তানে সুরক্ষিত নয় তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। একশো বছরের পুরনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলা হল সেখানকার পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল শহরে। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এদিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠন বলেছে, সংলগ্ন একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে জায়গা করে দিতে মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারা সেটিকে পুরনো রূপে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
গত ২১ অগাস্ট পাকিস্তানের পাঞ্জাবের নারোয়ালে মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা পাকিস্তান মসিহা মিল্লাট পার্টির তরফে বলা হয়েছে, একদল লোক মন্দিরটি ভেঙে ফেলেছে। এমনই খবর প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রথম সারির দৈনিক ‘ডন’।
পিএমএমপি (PMMP)-এর চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন যে, তিনি ও স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দারা গত ২৮ অগাস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে তাঁরা মন্দির ভাঙার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং ধর্মীয় স্থানটি রক্ষায় ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাহোত্রা জানান যে ‘ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড’ (ETPB) মন্দির-সংলগ্ন জমিটি একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সেমিনারি) কাছে ইজারা দিয়েছিল। তবে কয়েক বছর ধরে ভাড়া পরিশোধ না করায় সেই ইজারা বাতিল করা হয়। তিনি আরও জানান, পরবর্তীকালে ওই সম্পত্তির কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, শিয়ালকোটে ইটিপিবি (ETPB)-র ডেপুটি-ডিরেক্টর কর্তৃক জানুয়ারি মাসে যে আদেশ জারি করা হয়েছিল—যার মাধ্যমে ওই ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের ইজারা বাতিল, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং সম্পত্তিটি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—তা “কখনোই কার্যকর করা হয়নি।” পিএমএমপি (PMMP) মন্দিরটিকে তার আদি রূপে পুনর্নির্মাণের আহ্বান জানায় এবং পাঞ্জাব সরকারের প্রতি মন্দির, গুরুদোয়ারা ও গির্জা এবং সেগুলির সম্পত্তি রক্ষার আর্জি জানান।
গত জুন মাসে পাকিস্তানের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরনো গুরুদোয়ারা শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোনও আইনি অনুমোদন বা আদালতের আদেশ ছাড়াই এক স্থানীয় ব্যবসায়ী এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলেন, যার ফলে ঐতিহাসিক এই উপাসনালয়টির একাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফারুকাবাদের শিখ বাসিন্দারা এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার পরই কেবল কর্তৃপক্ষ এই ধ্বংসের বিষয়টি স্বীকার করেন।
Abhishek Banerjee : ‘সাইনবোর্ড নামাতে ১ হাজার লোক এনেছিল’, মন্তব্য অভিষেকের | ABP Ananda Live
Post Comment