‘বাবার মৃত্যুতে আনন্দ হয়েছিল, কোনও আক্ষেপ নেই’, স্বীকার করলেন অভিনেতা রাম কপূর
নয়াদিল্লি: অভিনয় দেখে একরকম ধারণা তৈরি হয়েছিল মানুষের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে অভিনেতা রাম কপূর কেমন মানুষ? যত দিন যাচ্ছে, নিজের জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরছেন তিনি। বিতর্ক, সমালোচনাকে কখনওই তেমন কানে তুলতেন না। এখনও নিজের শর্তে বাঁচার জন্য কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর। তাই কোনও রকম কুণ্ঠা না করেই জানিয়ে দিলেন, নিজের বাবার মৃত্যুতে তিনি খুশিই হয়েছিলেন। (Ram Kapoor on Father’s Death)
বহু বছর ধরে অভিনয় করে আসছেন রাম। টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা তিনি, আবার সাফল্য পেয়েছেন পুরোদস্তুর ছবিতেও। তবে রিয়্যালিটি শো ‘Lock Upp’-এ অংশ নেওয়ার দরুণ রামকে নিয়ে এখন আলোচনা পাড়ার মোড়ে মোড়ে। কেউ সমালোচনা করছেন, কেউ আবার প্রশংসা করছেন তাঁর সাহসের। তবে এবার যত্ন করে আড়ালে রাখা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনও প্রকাশ্যে এনে ফেললেন তিনি। (Bollywood News)
আরও পড়ুন: গুলিতে ঝাঁঝরা জনপ্রিয় গায়ক, পর পর ২০টি…কানাডা-আমেরিকায় বসে ষড়যন্ত্র?
বাবার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন রাম। বিশেষ করে বাবা যখন ক্যান্সারে ভুগছেন, সেই সময় সবকিছু সামলে উঠতে পারছিলেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। রাম বলেন, “ওই পরিস্থিতিতে বাবার সঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু বুঝে উঠতে পারছিলাম না কী করা উচিত। উনি কী চাইছিলেন, আমার কী করা উচিত ছিল, মাথায় ঢুকছিল না কিছুই। উনি হয়ত ভেবেছিলেন, রাম পারবে। উনি হয়ত আমার মধ্যে জোর দেখতে পেয়েছিলেন। আমি কিন্তু সেই সময় কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না।”
মারণ রোগের সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা বাবাকে দেখে কী অনুভূতি হয়েছিল, তা নিয়ে রাম বলেন, “মৃত্যুপথযাত্রী একজনকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম আমি। মোটেই সহজ ছিল না। ক্যান্সার খুব খারাপ জিনিস। খুব খারাপ রোগ। ওই রোগে মৃত্যু হওয়া যন্ত্রণাদায়ক। উনি কখনও কখনও মারাত্মক যন্ত্রণায় ভুগতেন। কখনও বিভ্রান্ত হয়ে পড়তেন, কখনও আবার…আমাকে সব সামলাতে হতো। আমার আসলে ভাবনাচিন্তারও সময় ছিল না। উনি মারা না যাওয়া পর্যন্ত যা যা করার করেছি। পরে যখন ধাতস্থ হলাম, বুঝতে পারলাম কত কী শিখেছি ওই অভিজ্ঞতা থেকে। আমার মনে হয়, ওটা আমার জন্য ভাল হয়েছিল। বাবা যা করতে চেয়েছিলেন, আমি তাতে সাহায্য় করেছিলাম। প্রত্যেকে রাজার মতো বাঁচতে চান বা চেষ্টা করেন। উনি রাজার মতো মৃত্যুবরণ করেছিলেন। নিজের শর্তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উনি। আমি তাতে সাহায্য করেছিলাম। সব ভালই হয়েছে।”
আরও পড়ুন: বিবাহবিচ্ছেদের পথে তারকাদম্পতি, মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল
বাবার জন্যই তাঁর মৃত্যুকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গিয়েছে বলে জানান রাম। তাঁর কথায়, “প্রত্যেকেই ভাবেন তাঁরা কখনও মরবেন না। পরিবারের সঙ্গে মৃত্যু নিয়ে আলোচনাও করেন না তাই। মৃত্যুর পরিকল্পনা, নিজের উইল তৈরি, সম্পত্তি ভাগাভাগি…যা হওয়ার তা হবেই, তাই না? তাহলে এড়িয়ে যাবেন কেন? ওঁর কষ্ট শেষ হয়েছে ভেবে ভীষণ স্বস্তি এবং আনন্দ পেয়েছিলাম আমি। তাই সেই মুহূর্তে মৃত্যু আমাকে আনন্দই দিয়েছিল। মৃত্যুর কথা ভেবে মুখে হাসি ফুটেছিল আমার। মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে যখন হাসতে পারলে ভয় থাকে কী? তাই আমার কাছে এখন গোটা বিষয়টি নিছকই কৌতুক। মনে হয় না আমি কোনও ভুল করেছি। আমি মৃত্যুপথযাত্রীকে সাহায্য় করেছি। কোনও আক্ষেপ নেই।”
‘কসম সে’, ‘বড়ে অচ্ছে লগতে হ্যায়’, ‘ঘর এক মন্দিরে’র মতো সিরিয়াল রামকে ঘরে ঘরে জনপ্রিয় করে তোলে। ‘উড়ান’, ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’, ‘থাপ্পড়ে’র মতো ছবিতেও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়। রামের বাবা অনিল ‘বিলি’ কপূর বিজ্ঞাপনের জগতে বেশ পরিচিত ছিলেন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল মারা যান অনিল। প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের রোগী ছিলেন তিনি। ৬৩ বছর বয়সে রোগ ধরা পড়ে। ১৮টি সেশন হয় কেমোথেরাপির। তাতে ভালই ছিলেন তিনি। কিন্তু একদশক পর, কোভিডের সময়, ৭৩ বছর বয়সে ক্যান্সার ফিরে আসে শরীরে। নতুন করে কেমোথেরাপি করাতে বলেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু আর চিকিৎসা না করানোর সিদ্ধান্ত নেন অনিল। জীবনের শেষ সময়টুকু নিজের শর্তে বাঁচতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় বাবার সঙ্গে ছিলেন রাম। তাঁর শেষ ইচ্ছেগুলি পূরণ করতে সবরকম সাহায্য় করেন তিনি। তবে বাবার ইচ্ছেকে সম্মান জানাতে গিয়ে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন রাম।
Post Comment