‘কিছু ভুলে গেছে বলে বাড়ি ফিরেছিল স্ত্রী…’, হড়পা বানে ‘চোখের পলকে সব শেষ হয়ে গেল !’

নুয়াকোট (নেপাল) : হড়পা বানে নেপালের একের পর এক বিধ্বস্ত অবস্থার ছবি সামনে আসছে। স্বজন হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বহু মানুষ। ভয়ঙ্কর সেই সময়ের কথা তুলে ধরছেন। সেরকমই নেপালের নুয়াকোটের এক বাসিন্দা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। কীভাবে স্ত্রী, নিজের বাড়ি এবং পড়শিদের অনেককে তিনি সেদিন চোখের সামনে ভেসে যেতে দেখেন সেকথাই জানালেন।

ওই বাসিন্দা বলেন, “আমি বুঝতে পারলাম আবার বান আসছে। লোকজন আমাকে সতর্ক করছিলেন যে জল এগিয়ে আসছে। কিন্তু, প্রথমে আমি তা বিশ্বাস করিনি। আমাদের শহরে ৮০-৯০টি বাড়ি আছে। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িতে খাচ্ছিলেন তখন। হঠাৎ কিছু লোক চিৎকার শুরু করলেন। ‘তাড়াতাড়ি করো, বান আসছে!’আমার স্ত্রীও খাচ্ছিল। আমি তাড়াতাড়ি খাবার খাওয়া শেষ করে নীচের তলার চলে এসেছিলাম যাতে আমার ব্যাগ এবং ড্রয়ার থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি যেমন-নাগরিকত্বের কার্ড নিতে পারি। সেই সময় আমার স্ত্রী চিৎকার করে উঠল, ‘তাড়াতাড়ি করো, বান আসছে!’ আমি দৌড়ে ফার্স্ট ফ্লোরে চলে যাই, তারপর আমরা দু’জনেই দৌড়ে রাস্তা পেরিয়ে উঁচু জায়গার দিকে যাই। হঠাৎ আমার স্ত্রী বলে ও কিছু ভুলে গেছে এবং বাড়ির দিকে ফিরে যায়।” 

 

তাঁর সংযোজন, “আমি ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম বন্যার জল খুব কাছেই ধেয়ে আসছে, জলের প্রবল স্রোত দ্রুত এগিয়ে আসছিল। আমি তাকে (স্ত্রীকে) দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য চিৎকার করেছিলাম, কিন্তু সে ঘরের ভিতরেই ফিরে গেল। আমি কোনওমতে নিজেকে বাঁচাতে ও নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে পেরেছিলাম… কিন্তু আমার স্ত্রীর বেরিয়ে আসার কোনও উপায় ছিল না। আমার বাড়ি এবং পুরো এলাকাটিই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেল। চোখের পলকেই-মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে-সবকিছু শেষ হয়ে গেল। কত যে ছাত্র প্রাণ হারাল! আমার স্ত্রীও মারা গেল। আমি সবকিছু হারিয়েছি—আমার সহায়-সম্পদ ও হোটেল—সবই পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। যেখানে আমার বাড়ি ছিল, সেখানে এখন নদী বয়ে যাচ্ছে। ফিরে যাওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।” 



Post Comment

You May Have Missed