মাসে ৫ হাজার টাকা, মাত্র ৩ বছর দেরিতে বিনিয়োগ শুরু করলে ক্ষতি হবে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা!

মাসে ৫ হাজার টাকা, মাত্র ৩ বছর দেরিতে বিনিয়োগ শুরু করলে ক্ষতি হবে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা!

কলকাতা: মিউচুয়াল ফান্ডে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা SIP দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে ধরা হয়। তবে শুধু বিনিয়োগ শুরু করলেই হবে না, নিয়মিত বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কয়েক বছরের দেরি বা মাঝপথে SIP বন্ধ করে দিলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্ভাব্য সম্পদ হাতছাড়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: টাকা কতদিনে ৩ গুণ হবে? ‘রুল অব ১১৪’ আপনাকে বলে দেবে সঠিক হিসাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, SIP-তে Compounding অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা পুরোপুরি পেতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হয়। বাজারে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘ সময়ে সেই ওঠাপড়া সামলে ভাল রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু বিনিয়োগে বিরতি এলে কম্পাউন্ডিংয়ের শক্তিও দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে, সঠিক সময়ে বাজারের হাল ফিরলে নিজের পোর্টফোলিওর ভ্যালু পুনরুদ্ধারের সুযোগও হাতছাড়া হয়।

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ২৫ বছর বয়সে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা SIP শুরু করলেন এবং প্রতি বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ করে বাড়ালেন। যদি তিনি ২৫ বছর ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যান এবং গড়ে ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন পান, তাহলে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ৫৯.০১ লক্ষ টাকা। সম্ভাব্য রিটার্ন হবে ১.৫৪ কোটি টাকার বেশি এবং মোট তহবিল দাঁড়াতে পারে প্রায় ২.১৪ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: ভারতে আসছে Skoda-র নতুন SUV, ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত, কত দাম হবে দেশের বাজারে?

অন্যদিকে, একই ব্যক্তি যদি তিন বছর দেরিতে, অর্থাৎ ২৮ বছর বয়সে একই অঙ্কের SIP শুরু করেন এবং ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন, তাহলে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ৪২.৮৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, ১৬.১৬ লক্ষ টাকা কম। সম্ভাব্য তহবিল দাঁড়াতে পারে ১.৩৬ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের দেরির কারণে সম্ভাব্য সম্পদের ব্যবধান তৈরি হতে পারে প্রায় ৭৮ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা।

এই হিসাব স্পষ্ট করে যে, SIP-এ দ্রুত শুরু করা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ড বাজার-সংযুক্ত বিনিয়োগ। তাই রিটার্ন কখনও নিশ্চিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Previous post

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে অভাবনীয় সাফল্য! ১৫ মিনিটের বুকিং সুবিধায় স্বস্তিতে যাত্রী ও রেল দু’পক্ষই

Next post

তারাতলা কাণ্ডে কালীচরণের থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চাইছেন গোয়েন্দারা

Post Comment

You May Have Missed