বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন, এমবাপেদের আটকাতে পারবে স্প্যানিশ আর্মাডা?

Football

-Ritesh Ghosh

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নিল স্পেন। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক দুই মিনিট আগে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে স্প্যানিশ আর্মাডা। ম্যাচজুড়ে একের পর এক নাটকীয়তার পর শেষ হাসি হাসল স্পেনই, যার ফলে বিশ্বমঞ্চে তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মেরিনো। এর আগে বেলজিয়ামের প্রধান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে লামেন্স মাঠে নামেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পাউ কুবার্সির নেওয়া জোরালো শট রুখতে গিয়ে এই ব্যাকআপ গোলরক্ষক বলটি হাত থেকে ফেলে দেন। সামনে ওত পেতে থাকা মেরিনো নিখুঁত ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান।

Mikel Merino celebrating after scoring winning goal against Belgium

মিকেল মেরিনো কেবল এই ম্যাচেই নন, এর আগের ম্যাচেও স্পেনের হয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পর্তুগালের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর লড়াইয়েও অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করে ১-০ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছিলেন এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। বেলজিয়ামের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে ৮৬ মিনিটে তাঁকে মাঠে নামানো হয়। মাঠে নামার পর মাত্র দ্বিতীয় স্পর্শেই দলকে কাঙ্ক্ষিত সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিলেন এই তারকা ফুটবলার।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ৩০তম মিনিটে পেড্রো পোরোর বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে দানি ওলমো একটি জোরালো শট নেন। তবে সেই শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন বেলজিয়ামের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ। সেই ফাঁকে সুযোগসন্ধানী মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে স্প্যানিশ শিবিরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে, ৪১তম মিনিটে তারা সফলও হয়। ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তাগনের চমৎকার বাতাসে ভাসানো ক্রস ডি-বক্সের ভিতরে খুঁজে নেয় বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড চার্লস ডে কেটেলারেকে। তিনি স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে লাফিয়ে উঠে এক নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে স্পেন প্রথম গোল খেল।

চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল চিনের প্রাচীরের চেয়েও দুর্ভেদ্য। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত একটানা ৬৪৯ মিনিট কোনও গোল হজম না করার এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছিল স্প্যানিশ ডিফেন্স। ডে কেটেলারের ওই দুর্দান্ত হেডারের ফলে শেষ পর্যন্ত স্পেনের সেই অবিস্মরণীয় ক্লিনশিট বজায় রাখার দৌড় থমকে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধের ৭১ মিনিটে বেলজিয়াম শিবিরে বড় ধরনের এক বিপর্যয় নেমে আসে। দলটির ভরসার প্রতীক এবং দীর্ঘদিনের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। কোর্তোয়ার পরিবর্তে গোলপোস্ট সামলানোর কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে লামেন্স। মাঠে নেমে প্রথম দিকে বেশ কয়েকটি কঠিন স্প্যানিশ আক্রমণ রুখে দিলেও, শেষ মুহূর্তে তাঁর একটি সামান্য ভুলই বেলজিয়ামের বিদায় নিশ্চিত করে দেয়।

মেরিনোর গোল হজমের পর ম্যাচ বাঁচাতে অন্তিম সময়ে স্পেনের পেনাল্টি বক্সের চারপাশে বেলজিয়াম তাদের সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু স্পেনের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা সেই ঝড় রুখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। বিশেষ করে ম্যাচের যোগ করা সময়ে স্পেনের ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বেলজিয়ামের একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ করে দেন। বেলজিয়ামের খেলোয়াড়ের নেওয়া একটি বিপজ্জনক ভলি তিনি বক্সের বাইরে পাঠিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন।

ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ও শিরোপা দখলের প্রবল দাবিদার ফ্রান্স। টেক্সাসের ডালাসে আগামী সপ্তাহে ফুটবল বিশ্বের এই দুই মহাশক্তি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে। ফরাসিদের বিপক্ষে এই মেগা ম্যাচের কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে মেরিনো এবং রুইজের এই দুর্দান্ত ফর্ম স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচকে দারুণ স্বস্তি দেবে। পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা এখন ডালাসের সেই মহারণের দিকে তাকিয়ে আছেন।

Post Comment

You May Have Missed