বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে ভারতে? ‘সম্ভব হচ্ছে না’ বলে মোদি সরকারকে SOS পাঠাল বিমান সংস্থাগুলি
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ভুক্তভোগী ভারতও। বিমানের জ্বালানির দামও এখন আকাশছোঁয়া। সেই আবহে কেন্দ্রকে এবার SOS ধরাল সমস্ত বিমান সংস্থা। যে হারে বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে আর পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে, ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে বার্তা দেওয়া হল। (Airlines SOS to Centre)
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে উড়ান পরিষেবার উপরও। বিশেষ করে বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ছে তরতর করে। সেই নিয়েই এবার কেন্দ্রকে বিপদবার্তা পাঠাল বিমান সংস্থাগুলি। এভাবে চললে পরিষেবা বন্ধ করে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানির দামে রদবদল করতে আবেদন জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া-সহ তিনটি সংস্থা, যার উপর উড়ান পরিষেবার ৪০ শতাংশ খরচ নির্ভর করে। (Jet Fuel Price Hike)
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান মন্ত্রককে। বলা হয়েছে, অন্তর্দেশীয় হোক বা আন্তর্জাতিক উড়ান, কোনও রকম বর্ধিত মূল্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে। বিমানগুলি অচল হয়ে পড়ে থাকবে। বাতিল করতে হবে বিমান। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেটের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে। ২৬ এপ্রিলের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, পরিষেবা টিকিয়ে রাখতে, নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে, পরিষেবা অব্যাহত রাখতে এবং এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সরকারের তরফে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা কাম্য।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের লিফটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু মহিলা কর্মীর, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ভয়ঙ্কর দৃশ্য়
দূরের উড়ানেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এমন জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করতে বলা হয়েছে, যা অন্তর্দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। অতীতে ‘Crack Band’ ব্যবস্থার মাধ্যমে তেমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত জ্বালানির মধ্যে চরম ব্যবধান তৈরি হয় না।
কেন্দ্রের তরফে অন্তর্দেশীয় উড়ানের ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম রাখা হয়েছিল প্রতি লিটারে ১৫ টাকা। সেই তুলনায় আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে ৭৩ টাকা দাম রাখা হয়েছিল প্রতি লিটারে।
এর পাশাপাশি, বিমানের জ্বালানির উপর থেকে সাময়িক শুল্ক প্রত্যাহার করতেও আবেদন জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিমানের জ্বালানির উপর ১১ শতাংশ শুল্ক আদায় করে কেন্দ্র।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে পৃথিবীর সর্বত্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর ওই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়।



Post Comment