প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট পড়ল মুর্শিদাবাদের এক কেন্দ্রে! স্বাধীনতার পরে এই প্রথম এত ভোট দিল মানুষ!
- নির্বাচন কমিশন ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া, এটি ঐতিহাসিক ভোটদান।
রুমা পাল, রাজর্ষি দত্তগুপ্ত, কলকাতা: SIR-এর পর যাকে বলে ভোটের সুনামি। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটদান হল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। ভোট পড়ল ৯২.৩৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। মুর্শিদাবাদের ৬টি সহ ১০টি বিধানসভা আসনে ভোট পড়ল ৯৬ শতাংশ বা তার বেশি।
নজিরবিহীন নির্বাচন
শুরু হয়ে গেল ভোটযুদ্ধ…..সকাল থেকে বুথের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন! কয়েকটি ঘটনা ছাড়া কার্যত উৎসবের মেজাজে ভোট দিলেন ভোটাররা! স্বাধীনতার পর, পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোট পড়ল, ৯২.৮৬%। ৯৬ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পড়ল ১০টি বিধানসভা আসনে। চুরমার হয়ে গেল পুরনো সব রেকর্ড। ঐতিহাসিক ভোট হল পশ্চিমবঙ্গে। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুরে। সেখানে ভোটের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। তারপরেই রয়েছে, বীরভূম ও জলপাইগুড়ি। যেখানে ভোট পড়েছে ৯৪ শতাশের বেশি। মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে ৯৩ শতাংশের বেশি। প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায়। আলিপুরদুয়ার, পূর্ব মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ায় পড়েছে ৯০ থেকে ৯১ শতাংশ ভোট।
ভোটদানে ২ দলের প্রতিক্রিয়া
এই ভোটদানের হার দেখার পরে, নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যে রেকর্ড ভোটদান হচ্ছে তাতে স্পষ্ট, ভয় হারছে, ভরসার জয় নিশ্চিত।’ অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলছেন, ‘প্রথম দফায় ভোটে আজকে বিজেপির রফাদফা করে দিয়ে এসেছি’। প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে। আর সময় যত এগোলো উপচে পড়ল ইভিএম! নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৮.৭৬ শতাংশ। সকাল ১১টায় সেই হার দাঁড়ায় ৪১.১১ শতাংশ। ৬২.১১ শতাংশ ভোট পড়ে যায় দুপুর ১টা পর্যন্ত। দুপুর ৩টে প্রদত্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৭৮.৭৭ শতাংশ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৮৯.৯৩ শতাংশ। শেষ অবধি সেই হার দাঁড়ায় ৯২.৮৬ শতাংশ। যা রেকর্ড।
কেন রেকর্ড ভোট?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এই রেকর্ড ভোট পড়ার নানা কারণ হতে পারে। SIR-এর পর এবার প্রথম ভোট। তাই ভোট দিতে না দিলে পরে নাম কাটা যেতে পারে, এই আশঙ্কায় দলে দলে মানুষ ভোট দিতে বের হয়েছেন। দ্বিতীয়ত প্রচুর ভোট পড়ার অর্থ হতে পারে তুমুল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া। অর্থাৎ শাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। তৃতীয়ত এবার যেহেতু SIR-এর ফলে ভোটার তালিকা একেবারে স্বচ্ছ হয়েছে, কোনও মৃত বা ডুপ্লিকেট ভোটার থাকার সুযোগ নেই, তাই মানুষ নিজের অধিকার প্রয়োগে সকাল থেকেই বুথমুখী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ২০১১ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস, সেই বছর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৪.৭২ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ৮২.২২ শতাংশ ভোট পড়ে ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৮৩.০২ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ৮১.৭৬ শতাংশ ভোট পড়ে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই হার ছিল ৮২.৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার ছিল ৭৯.৫৫ শতাংশের বেশি। সব পরিসংখ্যানকেই ছাপিয়ে গেল, এবারের ভোট দানের হার।
৯৬% বা তার বেশি ভোট পড়েছে রাজ্যের ১০টি বিধানসভা আসনে। তার মধ্যে ৬ টি বিধানসভাই মুর্শিদাবাদে। সেগুলি হল – ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ, শীতলকুচি, সিতাই, ময়নাগুড়ি, লালগোলা, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, রানিনগর এবং হরিরামপুর। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোটদান হল এবারের নির্বাচনে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর প্রত্য়েক ভোটারকে স্য়ালুট।



Post Comment