নভি মুম্বই ও গুয়াহাটি বিশ্বের সুন্দরতম বিমানবন্দরের তালিকায়, অনন্য কীর্তি স্থাপন আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের
India
-Ritesh Ghosh
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলির তালিকায় অত্যন্ত সগৌরবে জায়গা করে নিল ভারতের দুটি অনন্য আধুনিক বিমানবন্দর। আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড পরিচালিত নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ২ মর্যাদাপূর্ণ ২০২৬ সালের প্রিক্স ভার্সাই তালিকায় স্থান পেয়েছে। ভারতের এই অসামান্য বৈশ্বিক সাফল্য বিশ্বমঞ্চে দেশের আকাশপথের পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ এবং বিমানবন্দরগুলির অনুপম নান্দনিকতার পরিচয় দেয়।
২০২৬ সালের ১৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের প্যারিস থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বমানের বিমানবন্দরগুলির সেরা স্থাপত্যের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি কেবল আদানি অ্যাভিয়েশনের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেনি, এটি বিশ্বমানের স্থাপত্য নির্মাণে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিভাকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুনিপুণ মেলবন্ধন ঘটিয়ে কীভাবে যুগোপযোগী বিমান চলাচল কেন্দ্র তৈরি করা যায়, এই তালিকায় তা দৃশ্যমান হয়েছে।

প্যারিসের ইউনেস্কো সদর দফতরে ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি বছর প্রিক্স ভার্সাই পুরস্কারের আসর আয়োজিত হয়ে আসছে। বিশ্বের উন্নত সমসাময়িক স্থাপত্যের অসামান্য কৃতিত্বকে সর্বজনীন দরবারে স্বীকৃতি দিতে এই মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেবল চমৎকার নকশা ও ঝকঝকে পরিকাঠামো নয়, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে ঐতিহ্যগত অনুভূতির সঞ্চার করার সফল প্রয়াসকেই এই সম্মানজনক পুরস্কার প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থাপত্যের নকশা তৈরিতে পরিবেশগত সহনশীলতা ও টেকসই ভাবনা বজায় রাখা এই আয়োজনের প্রধান শর্ত। এই প্রতিযোগিতার মূল দর্শন হল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সুদূরপ্রসারী ধারণার সুষ্ঠু বিকাশ ঘটানো, যাকে সংশ্লিষ্ট স্থাপত্যবিদরা সরাসরি ‘বুদ্ধিদীপ্ত স্থায়িত্ব’ বলে থাকেন। এই নিরিখে প্রতিটি দেশের স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে বিমানবন্দরগুলিকে আধুনিক জীবনের উপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে সফলভাবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
পুরস্কার কমিটির বিশিষ্ট নির্বাচকদের মতে, আধুনিক বিশ্বমানের বিমানবন্দরগুলি এখন আর কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সাময়িক যাতায়াতের সাধারণ ট্রানজিট ক্ষেত্র হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এগুলি এখন এমন এক একটি নয়নাভিরাম ল্যান্ডমার্কে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভ্রমণকারীদের জন্য স্থানীয় ঐতিহ্য স্বচক্ষে পরখ করার এবং আন্তর্জাতিক মানের এক সমৃদ্ধ আবহ উপভোগ করার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে চলেছে।
নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালটি মূলত তার অনন্য পদ্মফুলের আদলে তৈরি অসাধারণ চমৎকার নকশার জন্য ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশ্বমানের ভবিষ্যৎমুখী এই নকশায় একদিকে যেমন বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনই ভারতীয় শিল্প ও কলার ঐতিহ্যকে অনন্য দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সুন্দর শিল্পকর্ম ও আধুনিক কার্যকারিতার এই অপূর্ব সংমিশ্রণ বিশ্বের নজর কেড়েছে।
অন্যদিকে, গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ২-এর স্থাপত্যশৈলী সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিখ্যাত অর্কিড ‘ব্যাম্বু অর্কিড’-এর চমৎকার প্রাকৃতিক রূপের দ্বারা। এই অঞ্চলের সবুজ ও চিরসবুজ জীববৈচিত্র্যের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যকে টার্মিনালের দেওয়ালে ও সামগ্রিক স্থাপত্যের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা পরিবেশ ও প্রকৃতির সাথে এক নিবিড় সেতু তৈরি করে।
টার্মিনালের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার জন্য এক বিশেষ ধরণের অভ্যন্তরীণ সজ্জা বা ‘বায়োফিলিক’ উপাদানের চমৎকার ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি সবুজ শান্ত পরিবেশ বিমানযাত্রী ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয়। প্রকৃতির বুকে হারিয়ে যাওয়ার এই অদ্ভুত স্বস্তি এবং নান্দনিক আবেদন অসমের প্রাকৃতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বদরবারে সাফল্যের সাথে উপস্থাপন করতে পেরেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলির মর্যাদা অর্জন করার এই অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ে ভারতের দুটি বিমানবন্দর ছাড়া আরও বেশ কিছু নামী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জায়গা পেয়েছে। তালিকায় ঠাঁই পাওয়া বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলিও তাদের নিজস্ব পরিকাঠামোগত প্রযুক্তি ও নজরকাড়া সৃজনশীলতার জন্য সমানভাবে সমাদৃত। এশিয়ার উন্নত বিমানবন্দর থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুবিশাল পরিকাঠামো এই তালিকায় ভারতের সাথে লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। এই তালিকায় ভারত বাদে অন্য দেশের বিমানবন্দরগুলি হল-
| দেশ | স্থান ও বিমানবন্দর |
|---|---|
| চিন | গুয়াংজু বিমানবন্দর |
| জার্মানি | ফ্রাঙ্কফুর্ট আম মেইন বিমানবন্দর |
| কম্বোডিয়া | ক্যান্ডাল স্টুয়েং বিমানবন্দর |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | পিটসবার্গ বিমানবন্দর |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | সান দিয়েগো বিমানবন্দর |
২০২৬ সালের এই বিশেষ তালিকায় স্থান পাওয়া প্রতিটি বিমানবন্দরই পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সফল হয়েছে। এই বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় ভারতের বিমানবন্দরের স্থান পাওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, দেশের বিমান চলাচল ক্ষেত্র আন্তর্জাতিক গুণগত মান ও সৃজনশীলতার সাথে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিমানবন্দরগুলির আধুনিক রূপ ভারতীয় প্রকৌশলীদের নিখুঁত কাজের এক জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।
চলতি বছরের শেষের দিকে এই তালিকায় থাকা শর্টলিস্টেড বিমানবন্দরগুলির মধ্য থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। প্রিক্স ভার্সাই, ইন্টেরিয়র এবং এক্সটেরিয়র এই তিনটি মূল বিভাগে অসামান্য অবদানের জন্য তিনটি ভিন্ন বিমানবন্দর বা টার্মিনালকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হবে। ভারত এই সম্মানের অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।
আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের এই অসামান্য সম্মান ভারতের বিমানবন্দরগুলিকে উত্তরোত্তর বিশ্বমানের আধুনিক রূপে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনবদ্য প্রকাশ ঘটিয়ে কীভাবে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হওয়া যায়, এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি তারই এক অনন্য উদাহরণ। দেশীয় ঐতিহ্যের হাত ধরে ভারতের বিমান চলাচলে এক নতুন স্বর্ণালী যুগের সূচনা হতে চলেছে।


Post Comment