হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার ? স্বস্তি মিলবে ?
দিল্লি : উৎসবের মরসুমের আগে চিনির দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি হতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের। তবে কী কারণে আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধি, তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও সাধারণ মানুষ চিনি থেকে ইথানল উৎপাদনের কারণে চিনির দাম বেড়েছে বলে যে দাবি করছেন। কিন্তু সরকার এই যুক্তিকে নাকচ করে দিয়েছে। খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কম উৎপাদন, উৎসবের মরসুমে চাহিদা এবং মজুতদারির কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি, চিনির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে মজুতের সীমা নির্ধারণ এবং শুল্কমুক্ত আমদানির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকার।
কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, চিনির ক্রমবর্ধমান মূল্যকে ইথানল উৎপাদনে এর ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করা সম্পূর্ণ ভুল। পেট্রোলের সঙ্গে মেশানোর জন্য ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার অনেকটা কমে গিয়েছে। তথ্য় অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে ১২ শতাংশ-এর কাছাকাছি ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে এটি কমে গিয়ে প্রায় ৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে, দেশের মোট ইথানল উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে শস্য থেকে, প্রধানত ভুট্টা থেকে। ভারত বছরে প্রায় ৩২-৩৪ মিলিয়ন টন চিনি উৎপাদন করে, যার ফলে ২৮-২৯ মিলিয়ন টন উদ্বৃত্ত থাকে। আগে এই উদ্বৃত্ত চিনি কারখানাগুলোতে আটকে থাকত, যা তাদের তহবিল নিঃশেষ করে দিচ্ছিল এবং আখ চাষিদের অর্থ পরিশোধে বাধা দিচ্ছিল। এখন, সরকার এই উদ্বৃত্ত চিনি ও আখ ব্যবহার করে ইথানল উৎপাদন করছে, যা পেট্রোলে ব্যবহৃত হয়।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার ?
১. সরকার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সরকার চিনি ব্যবসায়ীদের ওপর মজুতের সীমা আরোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যবসায়ী প্রতি মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনির ব্যবসা করেন, তারা ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবেন না।
২. অপরিশোধিত চিনি আমদানির ওপরও কর মওকুফ করা হয়েছে।
৩. ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৪. ব্যবসায়ীদের জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৪০০ টন মজুতের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫. উৎসবের মরসুমে বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কারখানাগুলোকে ১৫ই অক্টোবর থেকে আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগস্ট সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কম দেশীয় উৎপাদন, উৎসবের মরশুমের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত কারণে আখের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শিল্পের কিছু অংশের জল্পনা ও মজুতদারি। খুব তাড়াতাড়ি আখ মাড়াই-এর কার্যক্রম শুরু হলে অক্টোবরে চিনির উৎপাদন ১০ লক্ষ টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত এই মাসে মাত্র ৩ থেকে ৪ লক্ষ টন চিনি উৎপাদিত হয়।
Jadavpur University: মেরামত করে ফিরল ঐতিহ্যের এমব্লেম, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি যাদবপুরে
Post Comment