কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ, রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের;’কী কী দিয়ে কী করতে হয়..’

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ, রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের;’কী কী দিয়ে কী করতে হয়..’

রুমা পাল, কলকাতা : কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ। এনিয়ে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দিল্লি থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। গত পরশু নকশালবাড়িতে জনসভা করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সভার একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনিয়ে বিরোধীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যেহেতু এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে বলা হয়েছে, বাহিনীর জওয়ানরা কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। সেই কারণে কমিশন ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। এই রিপোর্ট গেলেই বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়। 

কী বলেছিলেন মমতা ?

নকশালবাড়ির সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী বলেছিলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি পার্টির পতাকা নিয়ে যাচ্ছে। লজ্জা করে না ? গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বিজেপির নেতৃবৃন্দকে। আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু, আমি দেখেছি কাল বাঁকুড়ায় বিজেপির পতাকা নিয়ে যাচ্ছে। কোনওদিন যা হয়নি, অভিযোগ হয়েছে। মধু আর বিধু হয়েছে দুই ভাই। যত পারো চক্রান্ত তাই করে তাই। আর যদি মনে করে বাইরে থেকে এজেন্সি এনে ছাপ্পা করবে…মা বোনদের বলব যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। ছেলেদের পিছনে রাখবেন। আপনারা সামনে থাকবেন। আর কী কী দিয়ে কী করতে হয় আপনারা সব জানেন।” 

ভোটের আগে শুরু হয়ে গেছে হুমকি-হুঁশিয়ারি-কথার যুদ্ধ। ১১ জানুয়ারি ময়নাগুড়ির সভা থেকে, তৃণমূল প্রার্থীকে গাছে বেঁধে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। গত বুধবার ময়নাগুড়ি থেকেই পাল্টা হুঙ্কার ছাড়েন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।

ভোট এলেই সেই এক ট্র্যাডিশন। হুমকি…হুঁশিয়ারি….হুঙ্কার। ১১ জানুয়ারি, ময়নাগুড়ির সভা থেকে রামমোহন রায়কে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। যিনি স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী। সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, “সে তো নামে রামমোহন, আসলে হয়ে গেছে রাবণ মোহন। আমি আমার কর্মীদের বলব ওই বাতি চোরটাকে যেদিন হাতেনাতে ধরবেন, গাছের ডালে বেঁধে রাখবেন। বাকি ব্যবস্থা ভারতীয় জনতা পার্টি করবে।” 

বুধবার ময়নাগুড়ির সভা থেকে পাল্টা হুঙ্কার ছাড়েন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, “বিজেপির একজন মন্ত্রী নাকি বলে গেছেন, আমার প্রার্থী রামমোহন রায়, ওঁকে নাকি বলে গেছেন, গাছে বেঁধে পেটাবেন। আমি শুনলাম। আমি বলি গাছটাও আমাদের। গাছ বেঁধে পেটানোর জন্য নয়। গাছ মানুষকে ছায়া দেয়। তোমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না। আমি বিজেপি করি না।”

Previous post

Gold Silver Price: এক ভুলেই ডুবতে পারে সব টাকা ! সোনা, রুপো না অন্য ধাতু—কোথায় বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি লাভ?

Next post

মাটির উনুনে ফুটছে খিচুড়ি, রদবদল মিড ডে মিলের মেনুতেও, LPG সঙ্কটে কাঠ-কয়লায় রান্না খাস কলকাতায়

Post Comment

You May Have Missed