এই দম্পতির ভাগ্য বদলে দিল Reels, মাত্র ৪ মাসে ২ কোটি টাকা আয় !

এই দম্পতির ভাগ্য বদলে দিল Reels, মাত্র ৪ মাসে ২ কোটি টাকা আয় !

বাজারের বড় ফাঁক খুঁজেই শুরু-

এই স্টার্টআপের গল্প শুরু হয় পুণের শ্রেয়া এবং যোধপুরের বরুণের বিয়ের পর। শ্রেয়া লাক্সারি ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেছেন এবং ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি ও জনসংযোগ (PR)-এ তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে, বরুণ তাঁর পারিবারিক সংস্থা Creative Global-এর মাধ্যমে গত এক দশক ধরে বিদেশে উচ্চমানের আসবাবপত্র রফতানি করে আসছেন। ফলে উৎপাদন ও কাঠের গুণমান সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল।

ভারতের ঘরোয়া ফার্নিচারের বাজার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ক্রেতাদের সামনে মূলত দুটি বিকল্প—অত্যন্ত দামি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অথবা স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি, যেখানে গুণমান ও ফিনিশিং নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই ২০২৫ সালে জোধপুর থেকে ‘Birohh Living’ যাত্রা শুরু করে।

পথ মোটেই সহজ ছিল না

এই যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে বরুণ ও শ্রেয়া তাঁদের রফতানি ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই নতুন উদ্যোগ শুরু করেন এবং কিছু বিজ্ঞাপনও চালান। কিন্তু সেই সময়ই বরুণের বাবার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

কয়েক মাস বিরতির পর, বাবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বরুণ আবার নতুন উদ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁরা একটি সোশ্যাল মিডিয়া এজেন্সির সাহায্য নেন এবং সরাসরি কারখানার কারিগরদের কাজের ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে শুরু করেন।

রিলস বদলে দিল ব্যবসার ভাগ্য

ভিডিওগুলি ভাইরাল হতেই তাঁদের ইনবক্সে অর্ডারের বন্যা বইতে শুরু করে। দেশীয় ও স্বচ্ছ এই ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেলিব্রিটিদের কাছেও পৌঁছে যায়।

বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি এবং বলিউড অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া তাঁদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করতে শুরু করেন। তবে সাফল্যের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও আসে।

কী এই স্টার্টআপের বিশেষত্ব?

রফতানি ব্যবসার তুলনায় ভারতীয় বাজারে প্রতিটি ক্রেতার চাহিদা আলাদা। কেউ আসবাবের আকার, কেউ কাঠের ধরন, আবার কেউ পালিশ নিজের পছন্দমতো চান। প্রতিটি অর্ডার নজরে রেখে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া বরুণ ও শ্রেয়ার দলের কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁরা এখনও সেই প্রতিশ্রুতি সফলভাবে পালন করছেন।

এই স্টার্টআপের সবচেয়ে বড় USP হল উচ্চমানের কাঁচামাল এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা। তাঁরা শুধুমাত্র শিশম, টিক (সেগুন) এবং অ্যাকেশিয়া-র মতো সম্পূর্ণভাবে সিজন করা প্রিমিয়াম কাঠ ব্যবহার করেন। খরচ কমানোর জন্য কখনওই গুণমানের সঙ্গে আপস করা হয় না।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আসবাব তৈরির প্রতিটি ধাপের ছবি গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হয়। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে সংস্থার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়।

মাত্র ৪ মাসেই ২ কোটি টাকার বিক্রি

সংস্থার লিভিং রুম, বেডরুম ও স্টাডি রুমের আসবাবপত্রের দাম ৭ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে একটি অর্ডারের গড় মূল্য ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকার মধ্যে।

গ্রাহকদের এই আস্থা ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতির জোরেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে মাত্র চার মাসে ‘Birohh Living’ ২ কোটি টাকার বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

Previous post

তারাতলায় গোডাউনের নকশা অনুমোদনে সই খোদ ফিরহাদের, কাউকে ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

Next post

Ilish Fish: ডায়মন্ডহারবারে রেকর্ড ইলিশ! ২৫০ টন চওড়া পেটের মাছ ঢুকল বাজারে, টাটকা স্বাদ পেতে তৈরি কলকাতা, কেজি প্রতি দাম কত?

Post Comment

You May Have Missed