Mango Price: ২ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে আম! মাথায় হাত চাষিদের, নদিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতি? সমাধান কোন পথে?

Mango Price: ২ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে আম! মাথায় হাত চাষিদের, নদিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতি? সমাধান কোন পথে?

Last Updated:

Nadia Mango Price: জেলায় ফলন হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ, অথচ সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় জলের দরে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন নদিয়ার চাষিরা। যেখানে কলকাতার বাজারে আমের দর আকাশছোঁয়া, সেখানে ফড়েদের দাপটে ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের অভাবে খোদ উৎপাদকেরাই বঞ্চিত।

+

নদিয়া জেলার একটি আম বাগানে গাছে ঝুলে থাকা আম

রানাঘাট, নদিয়া , মৈনাক দেবনাথ: নদিয়া জেলা দীর্ঘদিন ধরেই উৎকৃষ্ট মানের আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে উৎপাদিত আম শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেই নয়, ভিন রাজ্য এবং বিদেশেও রফতানি হয়। কিন্তু প্রতিবছরই আম চাষিদের এক বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, ফলন বেশি হলেও তার যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়ে যায়।

চাষিদের অভিযোগ, আম একবার পরিপক্ক হয়ে গেলে খুব বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে গেলেই দাম ধসে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চাষিদের মাত্র দুই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। অথচ সেই একই আম কলকাতা ও অন্যান্য বড় শহরের বাজারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ফলে উৎপাদক এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই এই ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।

আরও পড়ুন: সার্ভাইকাল ক্যানসার রুখতে এবার মাঠে খোদ গোবরডাঙ্গা থানার আইসি! ছুটে গেলেন গ্রামাঞ্চলে, বড় পদক্ষেপে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে

চাষিদের আরও দাবি, আগে গ্রামাঞ্চল ও শহরের ফুটপাথে বিপুল পরিমাণ আম বিক্রি হত হকারদের মাধ্যমে। বর্তমানে ফুটপাথ দখলমুক্তকরণ অভিযানের ফলে সেই বিক্রির ক্ষেত্রও অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। এরও প্রভাব পড়েছে আমের বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার অন্যতম সমাধান হতে পারে আমের প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলা। আম থেকে জ্যাম, জেলি, আচার, আমসত্ত্ব, স্কোয়াশসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব। জেলার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে এই কাজে যুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হওয়া রোধ করা যাবে, তেমনি তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। বহু বেকার যুবক-যুবতী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আয়ের পথ খুঁজে পেতে পারেন।

স্থানীয়দের মতে, যেমন মাজদিয়া-কৃষ্ণগঞ্জ অঞ্চলের নলেন গুড়ের সুনাম ধরে রাখতে সরকারি উদ্যোগে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেই পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আমের ক্ষেত্রেও গবেষণা ও শিল্পভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাহলে নদিয়ার এই অর্থকরী ফসল শুধু কয়েক মাসের মরশুমি ফল হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা বছর ধরে বাজারে তার উপস্থিতি বজায় থাকবে। চাষিদের আশা, সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কুটির শিল্পভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে আমের অপচয় যেমন কমবে, তেমনই জেলার অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে। নদিয়ার সুস্বাদু আম তখন শুধু মরশুমি ফল নয়, বরং কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

Post Comment

You May Have Missed