Swastha Sathi Scam: স্বাস্থ্য সাথীতেও ভূত! কার্ড আছে, উপভোক্তা নেই, ক্যাগ রিপোর্টে আগেই মিলেছিল আভাস, জানুন বিস্তারিত

প্রসঙ্গত, এই ভুয়ো স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাওয়ার কথা আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল ক্যাগ রিপোর্টে৷ কী বলা ছিল সেই রিপোর্টে? আসুন দেখে নেওয়া যাক৷

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একাধিক গাফিলতি, অতিরিক্ত অর্থপ্রদান ও নজরদারির অভাব—ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং আর্থিক অসঙ্গতির ছবি তুলে ধরেছে ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (CAG)-এর Performance & Compliance Audit Report (Report No. 5 of 2025)। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ সময়কালের প্রকল্প বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখে ক্যাগ জানিয়েছে, পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে হাসপাতাল তালিকাভুক্তিকরণ, সুবিধাভোগী যাচাই, চিকিৎসা নিরীক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ঘাটতি ছিল।

ক্যাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের লক্ষ্যপূরণে কোনও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন বা বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (Annual Action Plan) তৈরি করতে পারেনি স্টেট নোডাল এজেন্সি (SNA)। ফলে প্রকল্প পরিচালনা ও বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রূপরেখার অভাব ছিল।

নথিভুক্ত পরিবারের সংখ্যা রাজ্যের রেশন কার্ডধারী পরিবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ছিল

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথীতে নথিভুক্ত পরিবারের সংখ্যা রাজ্যের রেশন কার্ডধারী পরিবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ছিল। এই অসঙ্গতির কারণে প্রকৃত যোগ্য নন, এমন ব্যক্তিরাও প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ক্যাগ।

আধার সংযুক্তিকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিরীক্ষক সংস্থা। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আধার নম্বর সংগ্রহ ও ওয়েবসাইটে আপডেট করার নির্দেশ দিলেও সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে একই ব্যক্তি একাধিকবার স্বাস্থ্যসাথীতে নথিভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণগুলির একটি হল বেসরকারি হাসপাতালের গ্রেডিংয়ে অনিয়ম। ক্যাগ ৫০টি তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালের নথি পরীক্ষা করে দেখে, ৩১টি হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, পরিষেবা ও শয্যাসংখ্যার তুলনায় উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কম হারে অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও এই হাসপাতালগুলি বেশি হারে অর্থ পেয়েছে। এতে অতিরিক্ত ₹১৪.৪৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোগীদের হাসপাতাল বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত

এছাড়া, ২.৪৩ কোটি সুবিধাভোগী পরিবারকে পরিষেবা দিতে যেখানে ৩,০৩৮টি হাসপাতাল তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্য ছিল, সেখানে মাত্র ২,৬০৫টি হাসপাতালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে রোগীদের হাসপাতাল বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে এবং পরিষেবা প্রদানও ব্যাহত হয়েছে।

ক্যাগ আরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত পাঁচটি বিমা সংস্থা ৩,৯৫৫টি দাবি, যার মোট মূল্য ₹৭.২৬ কোটি, হাসপাতালগুলিকে পরিশোধ করেনি। অথচ এই অর্থ না দেওয়ার কারণ সম্পর্কিত কোনও নথি সংরক্ষিত ছিল না।

পোস্ট ডিসচার্জ মেডিক্যাল অডিট (PDMA) নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগ। জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত এই অডিটই করা হয়নি। পরে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অডিট করে বিভিন্ন হাসপাতালের উপর ₹১১.৭৮ কোটি জরিমানা ধার্য করা হলেও, তার মধ্যে মাত্র ₹৮.৩৬ কোটি আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ২৪৫টি চুক্তিভিত্তিক পদ—যার মধ্যে মেডিক্যাল অফিসার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটরও ছিলেন—নিয়োগ করা যায়নি। এর ফলে হাসপাতালগুলির পর্যবেক্ষণ, মেডিক্যাল অডিট এবং বিল পরিশোধের কাজে বিলম্ব হয়েছে।

স্বাস্থ্যসাথী পোর্টালে অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত হত না

অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। ক্যাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী পোর্টালে অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত হত না, অভিযোগ গ্রহণের স্বীকৃতিও দেওয়া হত না। অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানার কোনও ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়সীমা বা এসক্যালেশন মেকানিজম ছিল না। এমনকি অভিযোগ জমা বা নিষ্পত্তির সময় কোনও SMS সতর্কবার্তাও পাঠানো হত না।

সব মিলিয়ে ক্যাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার অভাব, তথ্য যাচাইয়ে গাফিলতি, হাসপাতাল গ্রেডিংয়ে অনিয়ম, পর্যাপ্ত অডিট না হওয়া, জনবল সংকট এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কী অভিযোগ উঠছে?

অভিযোগ, সন্ধান নেই লাখ লাখ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড-র উপভোক্তার৷ আগে যাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ছিল,তাদের অনেকেরই সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না৷ আগে যাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ছিল,তাদের অনেকেরই সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না৷ বাড়িতে সরকারের লোক গেলেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার ৷

অভিযোগ, ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নামের সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছে না৷ এতে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ৷

কী বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?

স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভুয়ো রোগী, ভুয়ো বিল, ভুয়ো ডাক্তার, ভুয়ো টিপিএ, দুর্নীতিটা খালি ভুয়ো নয়৷ এই হচ্ছে তৃণমূলের কালচার৷ আন্দাজ ২০-৩০ লক্ষ কোটি টাকার হতে পারে৷ এটা তদন্তের প্রথম ভাগ৷’’ অন্যদিকে, সব দুর্নীতির তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী৷

Post Comment

You May Have Missed