Suchetan Bhattacharya Exclusive: বলেছিলাম বাবার মৃতদেহের আশপাশেও যেন ইন্দ্রনীল সেনকে দেখা না যায়: সুচেতন ভট্টাচার্য
Last Updated:
সুচেতন ভট্টাচার্যের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূল আমলেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের হর্তাকর্তা হয়ে উঠেছিলেন ইন্দ্রনীল৷ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কোনও দিনই ইন্দ্রনীলকে পাত্তা দেননি বলেও দাবি সুচেতনের৷
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহের আশেপাশে যাতে ইন্দ্রনীল সেনকে দেখা না যায়, তা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি৷ ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বিতর্কে এমনই দাবি করলেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে সুচেতন ভট্টাচার্য৷ সুচেতনের দাবি, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শেষযাত্রায় ইন্দ্রনীল যাতে না থাকেন, তৃণমূলের তৎকালীন দুই সিনিয়র মন্ত্রীকে সেই অনুরোধ করেছিলেন তিনি৷
পুজোর পাস নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং তাঁর নিজের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মুখ খুলেছেন সুচেতন ভট্টাচার্য৷ News18 বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রনীল সেনকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি৷
সুচেতন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘বাবা যেদিন মারা গেলেন সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত কোনও জেলা সফরে চলে যাচ্ছিলেন৷ তাই বাবার শেষ যাত্রার যাবতীয় দায়িত্ব রাজ্যের দুই সিনিয়র মন্ত্রীকে দিয়েছিলেন তিনি৷ আমি তৃণমূলের সেই দুই মন্ত্রীকেই বলে রেখেছিলাম, রবীন্দ্র সদন, বিধানসভা অথবা দেহদানের সময় যেন কোথাও বাবার মৃতদেহের আশপাশেও ইন্দ্রনীল সেনকে দেখা না যায়৷ কারণ ইন্দ্রনীল সেন বাবার ঘনিষ্ঠ, এটা শোনাও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পক্ষে অপমানজনক বলেই আমার মনে হয়েছিল৷’
একই সঙ্গে সুচেতন জানিয়েছেন, তিনি যে ইন্দ্রনীল সেনকে পছন্দ করতেন না, তা সম্ভবত জানতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ তাই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থ থাকাকালীন তাঁকে বাড়িতে দেখতে এলেও সেই সময় ইন্দ্রনীল সেনকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন না মমতা৷
সুচেতন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ায় তিনি খুশি৷ প্রাইম মিউজিক নামে যে সংস্থায় তিনি ৮ বছর চাকরি করেছেন, সেই সংস্থায় ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন ইন্দ্রনীল৷ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তানের কথায়, ‘প্রাইম মিউজিকে যখন ঢুকি তখন আমার গানে আগ্রহ ছিল৷ ইন্দ্রনীল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন৷ আমি একজন কর্মী হিসেবে সেখানে যোগ দিয়েছিলাম৷ আমার মাইনে ছিল ১২ হাজার টাকা৷ ২০১৩ সালে পদত্যাগ করি৷৷ সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণই করেনি৷ এটা কতটা অপমানজনক ভাবুন৷ তবে আমি যে ওঁর ওখানে চাকরি করতাম, সেটা খুব বেশি ভাঙিয়ে নিতে পেরেছে বলে মনে হয় না৷’ ইন্দ্রনীল সেনকে ‘চালাক শয়তান’ বলেও আক্রমণ করেছেন সুচেতন৷

Post Comment