Snake Viral Video: সাপের উপরে অকথ্য অত্যাচার! দাঁড়াশের ল্যাজ ধরে…সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল নির্মম ভিডিও, কাঠগড়ায় খোদ বন দফতরের বিট অফিসার
Last Updated:
Snake Viral Video: ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঘটনায় বনমন্ত্রীর কাছে ই-মেল মারফত অভিযোগ করেছেন এক বন্যপ্রাণ প্রেমী৷ দ্রুত ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি৷
বিষ্ণুপুর: ভয়ঙ্কর দৃশ্য, নির্মম ভিডিও৷ একটা বিষহীন সাপকে লেজের কাছে ধরে বন বন করে ঘোরাচ্ছে একজন, বারবার আছড়ে ফেলছে মাটিতে, কখনও আবার পা দিয়ে চেপে ধরছেন মাথা৷ বলাবাহুল্য, যাঁদের ন্যূনতম জ্ঞান রয়েছে, তাঁরা জানবেন, এতে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়ে থাকবে সেই বিষহীন সাপের শিরদাঁড়া৷ যদিও সাপটি যে বিষহীন তা-ও হয়ত জানতেন না ওই ব্যক্তি৷ চতুর্দিকে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের উল্লাসের মাঝে নিজেকে ‘হিরো’ প্রমাণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য৷ বিষ্ণুপুরের ঘটনা প্রশ্ন উস্কে দিচ্ছে, যাঁদের উপরে কি না বন্যপ্রাণ রক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত, তাঁদেরই একজন এভাবে কী করে অত্যাচার চালাচ্ছেন অবোলা প্রাণীর উপরে৷ বিশেষ করে তাঁর প্রধান দায়িত্ব যেখানে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, প্রয়োজনে উদ্ধার ও অন্য নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসন৷ সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেঅ ভাইরাল এই নৃশংস ভিডিও৷ নিন্দার ঝড় চতুর্দিকে৷
রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায়, বিষ্ণুপুরের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল৷ সেই ভিডিওয় যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি সাপের ওপর চরম অত্যাচার করছে৷ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিষ্ণুপুর ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন অফিসের বিট অফিসার রাজীব মণ্ডল এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন৷ আর ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে৷ ইতিমধ্যেই বনমন্ত্রীকে অভিযোগ জানানো হয়েছে এই বিষয়ে৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক শুক্লা চ্যাটার্জি। ঘটনা যদি সত্য হয় তবে বনদফতর তদন্ত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, দাবি বিধায়কের৷
ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় (সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ১৮ বাংলা) দেখা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি একটি সাপকে ধরে কখনও আছড়ে মাটিতে ফেলছেন, তো কখনও পা দিয়ে লাথি মারছেন, পিষে দিচ্ছেন। আর সেই ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন অপর একজন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে নেটিজেনদের মধ্যে। জানা যায়, সাপের উপর অত্যাচার করা ব্যক্তি বিষ্ণুপুর ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন অফিসের বিট অফিসার রাজীব মণ্ডল।
যাঁর কিনা বন্যপ্রাণ সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন, তা না করে এই অফিসারই সাপের ওপর অত্যাচার করেছেন। ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুরের নীরজ কুমার নামের এক যুবক এই ভিডিওসহ বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাওয়ের কাছে মেল মারফত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে যাতে দোষী ব্যক্তি সাজা পায় সেই ব্যবস্থা করুক সরকার। বিজয় চৌধুরীর মতো বিষ্ণুপুরের সর্পপ্রেমীরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।
নিউজ১৮ বাংলার তরফে ফোনে কথা বলা হয়েছিল অভিযুক্ত এই বন আধিকারিকের সঙ্গে। তাঁর দাবি, এই ভিডিও এক থেকে দেড় বছর আগেকার। একদিন তাঁর ডিপোতে অসংখ্য মহিলা এবং পুরুষ কাজ করছিলেন, সেই সময় হঠাৎ করে একটি ভারতীয় র্যাট স্নেক যা চলতি নাম দাঁড়াশ সাপ বেরিয়ে আসে৷ তখন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মহিলারা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়৷ তিনি তখন অফিস থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন। তখন সাপটিকে বাগে আনতে ওই বন আধিকারিক ওই সমস্ত কার্যকলাপ করেন৷ অর্থাৎ, তাঁর সাফাই পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে এই ধরনের কাজ করতে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বনদফতরের অস্থায়ী কর্মীরা বন আধিকারিকেরই সুরে সুর মিলিয়ে জানান এই ঘটনায় বন আধিকারিকের দোষ নেই, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে এই কাজ করতে হয়েছে। তবে সর্প বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বন্যপ্রাণের ক্ষতি করতে হবে এমনটা নিয়ম নয়৷ প্রকৃত উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞেরা এক্ষেত্রে মানুষের কাছাকাছি সাপকে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে ধরে একটি ব্যাগে ভরে অন্যত্র জনমানবহীন জায়গায় ছেড়ে দিয়ে আসেন৷ সাপকে আছাড় মারা এক্ষেত্রে ‘অবশ্য কর্তব্য’ হতে পারে না৷

Post Comment