Mamata Banerjee: “আমরা ছাড়ব না, ওরা বাংলা লুঠ করেছে”, দিল্লি থেকে বিজেপিকে আক্রমণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, “উনি যা ইচ্ছা বলুন”, পাল্টা বিজেপি
নয়া দিল্লি: মঞ্চে উঠে প্রথমেই উপস্থিত সকল বামপন্থী দলের সদস্য, মেহবুবা মুফতি, বিভিন্ন এনজিও এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও ককরোচ জনতা পার্টি, জেন জি, সমস্ত ছাত্রছাত্রী ও তরুণ প্রজন্মকে তাঁদের সংহতি, সমর্থন এবং লড়াইয়ের জন্যও অভিনন্দন জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ২০২৪-এর নির্বাচন, চুরির নির্বাচন…, আমি বলছি না, নির্বাচন কমিশনই বলছে: রাহুল গান্ধী
বক্তব্যের শুরুতেই নিজের হিন্দি বলতে না পারর কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলরণ, “অখিলেশ বা তেজস্বীর মত ভাল হিন্দি আমি বলতে পারি না। ভাঙাচোরা হিন্দি পারি। আমি খুব সংক্ষেপে কয়েকটি কথা বলতে চাই। আমি বলতে চাই, এই SIR-এর ঘটনায় পরিস্থিতির শিকার বাংলা। আমরা ছাড়ব না। আমরা লড়ব। আমরা নিজেদের জীবন দিয়ে দেব, তবুও লড়াই থামাব না। ওরা বাংলা লুঠ করেছে। আমরা দিল্লি থেকে শুরু করব। লুঠ করব না, আমরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করব, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনব।”
এসআইআরের অর্থ কী? সেটা আজ মঞ্চ থেকে কিছুটা স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, “SIR-এর অর্থ কী? স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিলিফ, বিজেপির মতো একটা রাজনৈতিক দলের জন্য। ইভিএম লুঠ করেছেন। গণতন্ত্র লুঠ করেছেন, সংবিধান লুঠ করেছেন, মানুষের অধিকার লুঠ করেছেন। এবার নির্বাচনের গণনাও লুঠ করেছেন। ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি শুধু ভোট ভ্যানিশ করেননি, গোটা ভোট গণনাকেই উধাও করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে হাইজ্যাক করে বাংলার ১ কোটিরও বেশি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। আমরা ভোটে হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। এর জবাব আমরা রাজনীতির ময়দানে দেব। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই লড়াই করব।”
ভোট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রমণ করেন বিজেপিকে। তিনি বলেন, “কী লুঠ করেননি আপনারা? মানুষের চাকরি লুঠ করেছেন, জীবন লুঠ করেছেন, মা-বোনেদের সম্মান লুঠ করেছেন। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন, ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন? আপনারা বলতেন, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। এখন মানুষ বলছেন, বিজেপির সাথ, সবকা সর্বনাশ।”
মন্দির, মসজিদ ও গুরুদ্বার থেকে লুঠের কথা এদিন মঞ্চ থেকে বলেন তৃণমূল সুপ্রিমও। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মন্দিরের টাকা পর্যন্ত লুঠ করেছেন। রাম জন্মভূমির টাকা লুঠ করেছেন। বাংলার মন্দিরের টাকাও লুঠ করেছেন। গুরুদ্বার, মসজিদ, ওয়াকফ সম্পত্তি; কিছুই বাদ রাখেননি। মানুষের সম্মান, গণতন্ত্র, সংবিধান; সবকিছুর উপর আঘাত হেনেছেন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিভিন্ন এজেন্সি নিয়েও কথা বলেন। বলেন রাজ্যের পুলিশের কথাও। তিনি বলেন, “পুলিশ দিয়েও এখন দলের কাজ করাচ্ছেন। পুলিশ এখন বিজেপির সহযোগী হয়ে উঠেছে। বিজেপির কোনও সংগঠন নেই। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও যেন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। বিজেপি ক্ষমতা থেকে যাবে, যেতেই হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের বলা হচ্ছে, বাড়ি থেকে বেরোবেন না। আমাদের গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, গণতন্ত্র মানুষের অধিকার দিয়ে বিচার হয়, কোনও অত্যাচার বা দমন-পীড়ন দিয়ে নয়। যাঁরা লড়াই করেন, যাঁরা প্রতিদিন নিজেদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেন, তাঁরাই একদিন জয়ী হন। যাঁরা ভয় পায়, তাঁদের মৃত্যু হয়। আগামী দিনে আমাদের একটাই স্লোগান—’Save India, Save Democracy’। ভারতকে বাঁচাতে হবে, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে।”
দেশের তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “Gen Z, তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রছাত্রী, CJP এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছে আমাদের আবেদন, এই লড়াইয়ে কোনও রং, ধর্ম, জাতপাতের বিভেদ রাখা যাবে না। সমস্ত ধর্ম, সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বিজেপিকে পরাজিত করতে হবে। আমাদের স্লোগান একটাই—বিজেপি হটাও! বিজেপি হটাও! বিজেপি হটাও!”
এ ছাড়াও তিনি সকলের কাছে আবেদন করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পাশাপাশি সমস্ত তদন্তকারী সংস্থার কাছে আবেদন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। বিজেপির হাতের পুতুল হয়ে কাজ করবেন না। সংবাদমাধ্যমের কাছেও আবেদন, নিরপেক্ষ থাকুন। বিচারব্যবস্থার কাছেও অনুরোধ, গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। মানুষ যেন আর ন্যায়বিচারের আশায় কাঁদতে বাধ্য না হন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণের পাল্টা বলেছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পত্র। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের কাফের বলুন বা ভীতু বলুন। উনি যা ইচ্ছা বলুন। কিচ্ছু যায় আসে না। আমরা সাহসী। আমরা দেশের জন্য সব করতে পারি। এই আওয়াজে আমরা ভয় পাই না।”
Delhi Protest: রামলীলা ময়দানে হাজার হাজার মানুষের ঢল, কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণে জন ব্রিট্টাস
Post Comment