Iran’s New Weapon : “হার্ট অ্যাটাক না হয়…”, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হাতে ট্রাম্পকে হুমকি ইরানি নৌ-প্রধানের

Iran’s New Weapon : “হার্ট অ্যাটাক না হয়…”, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হাতে ট্রাম্পকে হুমকি ইরানি নৌ-প্রধানের

নয়াদিল্লি : অদূরেই রাখা ব্রহ্মাস্ত্র, তাক করা শত্রুপক্ষের দিকেই। পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলেই হামলা চালাতে এক মুহূর্ত সময় লাগবে না। শান্তি বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প বেঁকে বসতেই এই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নৌ-প্রধান শাহরাম ইরানি। স্পষ্ট ভাষায় বললেন, খুব শীঘ্রই নতুন একটি অস্ত্র দিয়ে শত্রুপক্ষের উপর হামলা চালাতে পারে ইরান। আর এই অস্ত্র নাকি শত্রুপক্ষের অদূরেই রাখা রয়েছে। অপেক্ষা শুধু সময়ের। ইরানি নৌ-প্রধান এও বলেছেন যে ‘এই অস্ত্র দেখে তাদের শত্রুপক্ষের যেন হার্ট অ্যাটাক না হয়ে যায়!’ কিন্তু কী এমন অস্ত্র রয়েছে ইরানের কাছে? এতটা কমফিডেন্ট তাঁরা, এটা অস্ত্র নাকি ব্রহ্মাস্ত্র?

প্রথম দফার ব্যর্থ শান্তি-বৈঠক, তারপর থেকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এই পর্ব নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি! বার্তা-পাল্টা বার্তা, এমনকি হুঙ্কারও — সবই হয়েছে। তবে দ্বিতীয়বার শান্তি-বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিয়ে দুই দিকেই দেখা গিয়েছে টালবাহানা। কখনও এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকা, কখনও এড়িয়ে গিয়েছে তেহরান নিজে। এই আবহেই ইরানকে আবার ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলে কটাক্ষ করলেন ট্রাম্প। সাফ বললেন, “ইরান পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে না এলে তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি করা সম্ভব নয়।” পাল্টা তেহরান আবার শান্তি-বৈঠকের মাঝে কাঁটা হিসাবে উল্লেখ করেছে হরমুজে বসানো মার্কিন-অবরোধকে। এক কথায় শান্তি যেন শত হস্ত দূরে, নতুন করে বাড়ছে দূরত্ব।

এবার এই আবহে ইরানি নৌপ্রধানের হুঙ্কার! কোন গোপন অস্ত্র উন্মোচন করতে চলেছে তেহরান? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন নয় বরং তাদের অন্যতম গোপনীয় অস্ত্রটিকেই এবার রণক্ষেত্রে নামাতে পারে তারা। সেটি হল হুট টর্পেডো। অবশ্য এই প্রসঙ্গে সিলমোহর দেয়নি ইরান। কিন্তু তাদের নৌপ্রধানের হুঙ্কার শুনে এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন একটা বড় অংশের বিশেষজ্ঞরা। 

কী এই হুট টর্পেডো? হুট একটি ফারসি শব্দ। যার অর্থ তিমি মাছ। গোটা বিশ্বে ইরান দ্বিতীয় দেশ, যাদের কাছে এই বিশেষ সাবমেরিন ভিত্তিক মিসাইল রয়েছে। যার ব্যবহার তারা করে না। ইরানের আগে থেকে রাশিয়ার কাছে এই সুপারক্যাভিটেটিং রকেট রয়েছে। ১৯৯০ সালে নিজেদের অস্ত্র ভান্ডারে এই বিশেষ অস্ত্রকে জায়গা দিয়েছিল তারা। ইরান জায়গা দিয়েছে ২০০০ সালের পর। কিন্তু এই একটা অস্ত্রে এমন কি ক্ষমতা রয়েছে?

সাধারণ ভাবে টর্পেডো ক্যাটাগরির মিসাইলের গতিবেগ ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়। ইরানের কাছে থাকা এই মিসাইল সুপার টর্পেডো ক্যাটাগরির। যার গতিবেগ জলের নীচে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। অবশ্য সেটাও ইরানের দাবি। সাধারণ ভাবে গভীর জলে বহু দামি-দামি মিসাইল নিজের গতিবেগ ও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ইরানের হুট এই সব দিক থেকে অপ্রতিরোধ্য। জলের নীচে বুদবুদ তৈরি করে বাধাহীন ভাবে এগোতে থাকে। ফলত গতিবেগের প্রসঙ্গেও এটি আপোসহীন।

আরও পড়ুন : নদীতে ভ্রমণের সময়ই ভয়াবহ নৌকাডুবি! চোখের সামনে জলের স্রোতে তলিয়ে গেলেন পর্যটকরা

তবে একা হুট টর্পেডো নয়, ইরানের ঝুলিতে এমন ক্ষমতাশালী ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব নেই বলেই দাবি করে তারা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্রথম দফার সংঘাতে ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের কেবলমাত্র এক তৃতীয়াংশ ধ্বংস করতে পেরেছে আমেরিকা। এ ছাড়াও তেহরানের সবচেয়ে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার প্রথম দফার সংঘাতে নাকি ব্যবহারই করেনি ইরান। সুতরাং তেহরানের নজরে বলা যেতে পারে, খেলা এখনও বাকি।

Previous post

ফের আকাশছোঁয়া দাম হবে সোনার ? সতর্ক করছেন মার্কেট এক্সপার্টরা, কত রেট হবে ?

Next post

Mamata Banerjee: ‘টিভিতে দেখার পর আমি নিজেই আসার সিদ্ধান্ত নিই’! কেন স্ট্রংরুম পরিদর্শনে এলেন, শাখাওয়াত থেকে বেরিয়ে জানালেন মমতা

Post Comment

You May Have Missed