‘ইরান-আমেরিকা উভয় দেশই ক্লান্ত, কিন্তু নিজেদের…’, প্রাক্তন কূটনীতিকের কথায়…
নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি অব্যাহত। যুদ্ধ শেষ করা ও হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করার লক্ষে নতুন করে আমেরিকাকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। এদিকে আমেরিকার তরফেও এই দ্বন্দ্ব মেটানোর উদ্যোগ দেখা গেছে আগে। এই আবহে ‘উভয় দেশই ক্লান্ত, তবে নিজেদের বিজয়ী হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে’ বলে মনে করছেন প্রাক্তন সিনিয়র কূটনীতিক সুরেন্দ্র কুমার।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচির একাধিক দেশে ভ্রমণ প্রেক্ষাপটে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে প্রাক্তন সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, উভয় পক্ষই ক্লান্ত এবং সত্যিই একটা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে, উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ জায়গার মানুষের কাছে এটাও তুলে ধরতে চায় যে, তারা চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর ইসলামাবাদ থেকে দোহা এবং এখন মস্কো পর্যন্ত ব্যাপক ভ্রমণ এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানিরা বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক। জনসমক্ষে বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও, তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করছে। তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে এবং এই অবরোধের ফলে তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।”
তাঁর সংযোজন, “উত্তেজনা প্রশমিত করবে এবং সুর নরম করবে এমন যে কোনও পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো উচিত। আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চরমসীমা দিচ্ছিলেন, একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে আত্মসমর্পণের দাবি করছিলেন অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছিলেন। সেই সুর এখন বদলে গেছে। একটি ফোন নম্বর বা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়াটা তাঁর পূর্ববর্তী রীতির থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। যদিও তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কেউ অনুমান করতে পারে না, বর্তমান সুর লক্ষণীয়ভাবে আরও ইতিবাচক। আমেরিকান প্রতিনিধিদল পৌঁছানোর আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রীর পাকিস্তান ত্যাগ করার ঘটনাতেও এটি স্পষ্ট; তাঁর প্রতিক্রিয়া কঠোর ছিল না, তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন যে কোনও পক্ষই প্রস্তুত না থাকলে এই দীর্ঘ যাত্রার কোনও অর্থ নেই।”
আমেরিকার কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আমেরিকা নৌবাহিনী যেভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে যে অচলাবস্থা চলছে তার সমাধান করতে চায় ইরান। তবে, নতুন চুক্তিতে পারমাণবিক-আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত দু’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই রিপোর্ট করেছে Axios। পারস্য উপসাগরের সঙ্গে ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও LPG গ্যাস এরমধ্যে দিয়ে সরবরাহ হয়। কাজেই, হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটানো খুবই জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউস প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পেয়েছে বলে খবর। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন চুক্তিতে সায় দেবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।



Post Comment