Herbal Abir: রঙের উৎসব এবার আরও নিরাপদ, পালং শাক, বিট-গাজর দিয়ে তৈরি হচ্ছে বস্তা বস্তা আবির! দাম আপনার হাতের মুঠোয়

Herbal Abir: রঙের উৎসব এবার আরও নিরাপদ, পালং শাক, বিট-গাজর দিয়ে তৈরি হচ্ছে বস্তা বস্তা আবির! দাম আপনার হাতের মুঠোয়

Last Updated:

Siliguri Herbal Abir: রঙের উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। মহিলাদের হাতে তৈরি হচ্ছে আবির। পরিবেশবান্ধব তো বটেই, সঙ্গে ত্বকেরও কোনও ক্ষতি হবে না। পালং শাক, জবা ফুল সহ প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে চলছে আবির তৈরির কাজ।

+

মহিলাদের হাতে স্বনির্ভরতার রং

শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: গত অক্টোবরের বন্যা যেন মুহূর্তে থামিয়ে দিয়েছিল শিলিগুড়ির পোড়াঝাড়ের জীবনচক্র। দুর্গাপুজোর পর উত্তরবঙ্গ জুড়ে তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ির অদূরের এই এলাকাও তলিয়ে যায় জলের নিচে। ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি, অসংখ্য মানুষ হয়ে পড়েন গৃহহীন। প্রায় চার থেকে পাঁচ মাসের লড়াইয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে জীবন। ভাঙা ঘর জোড়া লাগছে, কিন্তু স্মৃতির ক্ষত এখনও তাজা। তার মধ্যেই সামনে দোল। অর্থাৎ রঙের উৎসব।

আর সেই রঙেই নিজেদের জীবনে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনতে চাইছেন এলাকার মহিলারা। দোলকে সামনে রেখে এখন পোড়া ঝাড়ের বহু বাড়িতেই ব্যস্ততা। তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ভেষজ আবীর। পালং শাক, গাজর, বিট, জবা ফুল, কাঁচা হলুদের মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বানানো হচ্ছে লাল, কমলা, হলুদ ও সবুজ রঙ। কোনওরকম ভেজাল নেই। ত্বকের জন্য নিরাপদ। এই বার্তাই ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের হাতে তৈরি বলেই বাড়ছে চাহিদাও। ইতিমধ্যেই দুই কুইন্টালের বেশি আবীর তৈরি হয়েছে। দোলের আগের দিন পর্যন্ত চলবে উৎপাদন। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ‘শিলিগুড়ি ইউনিক ফাউন্ডেশন’।

গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় কাজ করছে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের পরিচালিত ‘বিদ্যাছায়া’ টিউশন সেন্টারের ছাত্রীরা এবং তাদের অভিভাবকরা যুক্ত হয়েছেন আবীর তৈরির কাজে। আগে সীমিত পরিসরে তৈরি হলেও এ বছর প্রায় ২০-২৫ জনকে নিয়ে বড় আকারে উৎপাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুল, বিএসএফ ও সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে অর্ডার এসেছে। পাশাপাশি সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও নেওয়া হচ্ছে অর্ডার। দাম রাখা হয়েছে সাধ্যের মধ্যে। প্রায় আড়াইশো টাকা কেজি।

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গীতিকা পাল জানান, “এ বছর আবীর বিক্রির বেশিরভাগ লাভ তুলে দেওয়া হবে পোড়া ঝাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের হাতে। পাশাপাশি কিছু অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যা ছায়ার পড়ুয়াদের জন্য।” স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা রায় বলেন, “বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই আবীর তৈরি করে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি এ বছর একটু লাভের মুখ দেখব।” বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রঙের উৎসবে নিজেদের জীবন রাঙাতে চাইছে পোড়া ঝাড়। ভেষজ আবীরের প্রতিটি কণায় তাই মিশে আছে শুধু রঙ নয়, লড়াই, সাহস আর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/

Herbal Abir: রঙের উৎসব এবার আরও নিরাপদ, পালং শাক, বিট-গাজর দিয়ে তৈরি হচ্ছে বস্তা বস্তা আবির! দাম আপনার হাতের মুঠোয়

Post Comment

You May Have Missed