Food Safety: মায়াপুরে ঘুরতে যাচ্ছেন? সাবধান! আশেপাশের হোটেলে হোটেলে খাবার পরীক্ষা করে যা পাওয়া গেল, দেখে গা ঘিনঘিন করবে
Last Updated:
Food Safety: মায়াপুরের রেস্তোরাঁ ও হোটেলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের সারপ্রাইজ ভিজিট! উদ্ধার পচা-বাসি খাবার, অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি ট্রেড লাইসেন্সও। কড়া অ্যাকশনে প্রশাসন। কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে হোটেল মালিকদের। রান্নাঘরের ছবি দেখলে গা ঘিনঘিন করবে।
মায়াপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তীর্থক্ষেত্র নদিয়ার মায়াপুরে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি সুনিশ্চিত করতে ব্যাপক অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও ব্লক প্রশাসন। পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে নবদ্বীপ ব্লক প্রশাসন এবং জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের একটি যৌথ দল মায়াপুরের ইসকন মন্দির সংলগ্ন এলাকা ও রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সারপ্রাইজ ভিজিট চালায়। এই অভিযানের জেরে বেশ কয়েকটি অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর হোটেল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুরে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। সেই সুযোগ নিয়ে রাস্তার ধারের সরকারি জমি ও সংলগ্ন চত্বরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একাধিক খাবার দোকান। এ দিন পরিদর্শনে নেমে আধিকারিকরা দেখেন, অধিকাংশ হোটেলের রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি বহু দোকানে কর্মীদের মাথায় ক্যাপ বা হাতে গ্লাভস ব্যবহারের কোনও বালাই নেই। তল্লাশির সময় কিছু দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বা বাসি খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয় এবং তা সঙ্গে সঙ্গেই নষ্ট করে ফেলা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, বহু দোকানের কাছে না রয়েছে পঞ্চায়েত বা পুরসভার বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, না রয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কোনও অনুমোদনপত্র। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক তৃষা হাজরা জানান, মন্দিরের সম্মুখভাগে প্রায় ১২ থেকে ১৩ টি খাবারের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় একাধিক দোকান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বিদিশা নাগ এবং ফুড অ্যানালিস্ট দীপক পাল। অভিযান চলাকালীন খাবারের রাসায়নিক ও গুণগত মান তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করার জন্য প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যান উপস্থিত ছিল। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তেল, মশলা ও রান্নার উপকরণের মান পরীক্ষা করা হয়।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়ীদের অহেতুক হয়রানি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। যেসব দোকানে ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় সরকারি নোটিশ ধরানো হয়েছে এবং আগামী ৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সংশোধন করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। নবদ্বীপ ব্লক প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি অভিযান চলবে এবং বছরভর নির্দিষ্ট সময় অন্তর এমন তল্লাশি জারি থাকবে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় অবৈধ কারবারিদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
Post Comment