Food Fair: ২ টাকার বিরিয়ানি খেতে লম্বা লাইন, কয়েন হাতে অপেক্ষায় শিক্ষক, অভিভাবকরা! মুড়ি-মুড়কির মতো বিক্রি হল মোয়া, মালপোয়া, ফুচকা
Last Updated:
Food Fair: পকেটে মাত্র ২ টাকা থাকলেই গরম বিরিয়ানি থেকে ফুচকা, মিলল ভরপেট চটপটা খাবার! জাঙ্ক ফুডের আসক্তি দূর করতে দুর্গাপুরের আশিসনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছিল খাদ্যমেলা। শিশুদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করতে শুরু হয়েছে ‘শিশু ব্যাঙ্ক’।
দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান: একদিকে ধোঁয়া ওঠা গরম বিরিয়ানি, তো অন্যদিকে জিভে জল আনা চটপটা ফুচকা। কোনও স্টলে সাজানো মুচমুচে চিকেন পকোড়া, আবার কোথাও ঘরের তৈরি মোয়া, মালপোয়া আর গরম কচুরি। তবে খাবারের মেনুর থেকেও চোখ কপালে তোলার মতো বিষয় হল তার দাম। পকেটে মাত্র ২ টাকার একটি কয়েন থাকলেই মিলেছে ভরপেট খাবার। দুর্গাপুরের আশিসনগর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার বসেছিল এমনই খাদ্য মেলা।
এই খাদ্য মেলায় কোনও পেশাদার দোকানদার ছিলেন না। স্টলের বিক্রেতা থেকে পরিবেশক, সব দায়িত্বই সামলেছে স্কুলের একরত্তি পড়ুয়ারা। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন অভিভাবকরাও। স্কুল চত্বরে সারি দিয়ে বসেছিল মোট ৩০টি খাবারের স্টল। খাবারের গন্ধে গোটা এলাকা যেন অন্যরকম রূপ নিয়েছিল। খুদেদের থেকে মাত্র দু’টাকায় খাবার কেনার আনন্দে শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। হাসি-মজায় মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় সব স্টলের খাবারের স্টল।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিজন বিশ্বাস জানয়েছেন, প্রতিদিন বাড়ি থেকে টাকা এনে পড়ুয়ারা দোকান থেকে চিপস ও কুড়কুড়ের মতো অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবার কিনত। এতে যেমন তাদের পেটের রোগ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছিল। তেমনই প্লাস্টিকের আবর্জনায় স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। বারবার বুঝিয়েও এই বদভ্যাস পুরোপুরি আটকানো যাচ্ছিল না। তাই শিশুদের জাঙ্ক ফুডের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবারের স্বাদ চেনাতেই এই বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
শুধুমাত্র মুখরোচক খাবার বিক্রি করেই থেমে থাকেনি এই আয়োজন। পড়ুয়াদের স্বাবলম্বী করার এক পথও তৈরি করেছে স্কুলটি। মেলা থেকে খুদেদের যা লাভ হয়েছে, সেই উপার্জিত টাকা সঞ্চয় করতে এদিন থেকেই স্কুলে পথ চলা শুরু করেছে ‘শিশু ব্যাঙ্ক’। ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং টাকা ব্যবহারের গুরুত্ব শেখানোই এর মূল লক্ষ্য। খুদে পড়ুয়াদের হাত ধরে ২ টাকার খাবার মেলা আর শিশু ব্যাঙ্কের এই মেলবন্ধন এখন গোটা দুর্গাপুরের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।

Post Comment