Agriculture News: খরচ অর্ধেক, লাভ হবে দ্বিগুণ! মাত্র ৪ মাসেই রেকর্ড ফলনের নয়া ধান বীজ আবিষ্কার পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে, খুশি চাষিরা

Agriculture News: খরচ অর্ধেক, লাভ হবে দ্বিগুণ! মাত্র ৪ মাসেই রেকর্ড ফলনের নয়া ধান বীজ আবিষ্কার পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে, খুশি চাষিরা

Last Updated:

Agriculture News: পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষিক্ষেত্রে বড় বদল! আমন ও বোরো, উভয় মরশুমের জন্যই এবার তৈরি হল এক বিশেষ জাতের ধান ‘বিধান ধান-২৪’। রোগপ্রতিরোধক ও স্বল্পমেয়াদী এই বীজ চাষিদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি এনে দেবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

+

নতুন ধান বীজের আবিষ্কারে খুশি চাষিরা

নন্দকুমার, সৈকত শী: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সাধারণত দুই মরশুমে ধান চাষ হয়—বর্ষাকালে আমন এবং শীতকালে বোরো। এতকাল এই দুই ভিন্ন মরশুমের জন্য চাষিদের আলাদা আলাদা বীজের উপর নির্ভর করতে হত। তবে এবার সেই চিরাচরিত নিয়মে বদল আসতে চলেছে। আমন ও বোরো—উভয় মরশুমেই চাষ করা যাবে, এমন এক যুগান্তকারী উন্নত জাতের ধান নিয়ে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। এই বিশেষ জাতটির নাম ‘বিধান ধান-২৪’। কম সময়ে দ্বিগুণ লাভ নিশ্চিত করতেই মূলত এই ধানের জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

ধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাগুলো হল, স্বল্প মেয়াদী ফসল। প্রচলিত লাল স্বর্ণ ধান পাকতে যেখানে প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে, সেখানে ‘বিধান ধান-২৪’ মাত্র ১২০-১২৫ দিন অর্থাৎ মাত্র চার মাসেই ঘরে তোলা সম্ভব। অধিক ফলন। কম সময় লাগলেও ফলনে কোনও ঘাটতি নেই। হেক্টর প্রতি প্রায় ৬ থেকে ৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম এই ধান। প্রতিকূল আবহাওয়া সহনশীল। এই জাতটি কম জলেও যেমন ভাল ফলন দেয়, তেমনই খরা ও কম রোদেও টিকে থাকতে পারে। ফলে খামখেয়ালি আবহাওয়াতেও কৃষকদের লোকসানের ভয় নেই। এই ধানের হালিং ক্ষমতা ৮১ শতাংশ এবং মিলিং ক্ষমতা ৬৯ শতাংশ। পাশাপাশি, ধান গাছের অন্যতম প্রধান শত্রু—পাতা ঝলসা, ব্লাস্ট এবং বাদামী দাগ রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

আরও পড়ুন: রাজ্য বাজেটে সিউড়ির ঐতিহাসিক প্রাপ্তি! মেডিক্যাল কলেজ, ৪ লেনের নতুন সেতুর জোড়া ধামাকায় বিলি হল লাড্ডু

পূর্ব মেদিনীপুর কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বীজ বিভাগের বিশেষজ্ঞ সুদীপ মণ্ডল জানান, “কম সময়ে বেশি ফলন দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের জমিতে সহজে মানিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ‘বিধান ধান-২৪’ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের আমন ও বোরো চাষের জন্য আর আলাদা বীজ কিনতে হবে না, যা সরাসরি তাঁদের উৎপাদন খরচ কমাবে এবং আয় বাড়াবে।” ইতিমধ্যেই দেশের ১৭টি রাজ্যে এই উন্নত প্রজাতির ধান চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে প্রগতিশীল চাষিদের মধ্যে এই জাতের ব্রিডার সিড (Breeder Seed) বা মৌল বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অপেক্ষার অবসান, রোগী পরিষেবায় বড় উপহার কালনা হাসপাতালে! রোগীর ভোগান্তি কমাতে ৭ দিনেই খুলছে এক্সটেনশন ওয়ার্ড

জেলায় ধানের উৎপাদন বাড়াতে এবং আরও বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছে এই বীজ পৌঁছে দিতে ২০২৬–২৭ খরিফ মরশুমে একটি বিশেষ বীজ উৎপাদন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশা, এই নতুন জাতের হাত ধরে আগামী দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব আসবে এবং কৃষকেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। এতদিন পর্যন্ত আমন ধান চাষ করার সময়, কৃষকদের আমন ধানের বিভিন্ন প্রজাতির বীজ কিনে চাষ করতে হত। আবার সেই কৃষকদের বোরো ধানের সময়, বোরো ধানের বিভিন্ন প্রজাতির বীজ কিনে চাষ করতে হত। কিন্তু এই বিধান ২৪ প্রজাতির ধান আমন ও বোরো ধানের সময়ে চাষ করা সম্ভব। আর এর ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের লাভ বাড়বে।

বাংলা খবর/ খবর/ব্যবসা-বাণিজ্য/

Agriculture News: খরচ অর্ধেক, লাভ হবে দ্বিগুণ! মাত্র ৪ মাসেই রেকর্ড ফলনের নয়া ধান বীজ আবিষ্কার পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে, খুশি চাষিরা

Post Comment

You May Have Missed