মমতা-অভিষেককে দল থেকেই সরিয়ে দিল ঋতব্রতর ‘আসল তৃণমূল’
West Bengal
-Ritesh Ghosh
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে এক নজিরবিহীন মোড়। কিছুদিন আগে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ এবার চরম সিদ্ধান্ত নিল কালীঘাট তৃণণূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। দলবিরোধী কাজ এবং নানা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের যুক্তি দেখিয়ে অভিষেককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদ থেকে সরানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
মাত্র মাসখানেক আগে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব। কিন্তু রাজনীতির ভোলবদল হতে বেশি সময় লাগেনি। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ঋতব্রতর সংগঠিত শক্তির কাছে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত বছরের দল। একের পর এক হেভিওয়েট বিধায়ক ও সাংসদেরা মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে যোগ দিয়ে দলটিকেই অবলুপ্ত করে দিয়েছে।

এদিন সোমবার এক বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করেন ঋতব্রতপন্থীরা। সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই গঠিত হয়েছে ‘আসল তৃণমূল’-এর নতুন সাংগঠনিক কমিটি। এই নতুন বিন্যাসে দলের সর্বময় কর্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
নতুন এই কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়ের নাম। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেতা অরূপ রায়কে এই পদ দিয়ে দলের পুরোনো ও বিক্ষুব্ধ কর্মীদের মনে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সঙ্গে দলনেত্রীর দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াইয়ের সঙ্গী ফিরহাদ হাকিমকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাইস চেয়ারম্যানের পদে আনা হয়েছে।
দলের এই নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, দলের নেতৃত্ব এখন কয়েকজন তরুণের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই নবগঠিত সাংগঠনিক কাঠামোটির মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে তুলে ধরা হল:-
| পদের নাম | মনোনীত নেতৃত্ব |
|---|---|
| চেয়ারপার্সন | অরূপ রায় |
| ভাইস চেয়ারম্যান | ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ |
| সাধারণ সম্পাদক | জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন |
কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফিরহাদ ছাড়াও স্থান পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস এবং রথীন ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতারা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্বে আনা হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, স্বয়ং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে। এই আমূল রদবদল স্পষ্ট করে দেয় যে, মমতার ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই এখন বিকল্প এই ব্যবস্থার শরিক হয়ে পড়েছেন।
নতুন কমিটি গঠিত হতেই তাঁরা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছেন। ফলে দলীয় সংগঠন থেকে শুরু করে বিধানসভা এমনকী সংসদীয় স্তরেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় মমতার হাত ছেড়েছেন ৬৪ জনেরও বেশি বিধায়ক। পাশাপাশি লোকসভাতেও বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ-র সহযোগী এক অচেনা দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও পরপর সাংসদরা পদত্যাগ করেছেন।



Post Comment