বাংলা সফরে মোদী, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ কাজের অঙ্গীকার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে

বাংলা সফরে মোদী, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ কাজের অঙ্গীকার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে

West Bengal

-Ritesh Ghosh

পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকারের আমলে এই প্রথমবার পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফর ঘিরে নতুন রূপ নিয়েছে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাগুলি।

এদিন শনিবার দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূলত পরিকাঠামো উন্নয়ন, একগুচ্ছ নতুন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের শুভ সূচনা এবং ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিতে অংশ নিতেই তাঁর এই রাজ্য সফর।

PM Modi arriving in West Bengal for development projects

প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিন অর্থাৎ শনিবারের মূল কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু রয়েছে হুগলির তারকেশ্বর। এখানে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের এক দেশাত্মবোধক ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে শামিল হবেন মোদী। তারকেশ্বরের বালিগড়িতে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় জনসভা করার কথা রয়েছে, যেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হতে পারে। এ ছাড়া, তিনি রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন, যেখানে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন হতে পারে।

রাজ্যে আসার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান ও সমাজ সংস্কারের মতো বহু বিচিত্র ক্ষেত্রে বাংলার অবদানের কথা অনস্বীকার্য। ইতিহাসজুড়ে ভারতের জাতীয় চেতনাকে পশ্চিমবঙ্গ বারে বারে সমৃদ্ধ করেছে বলে মোদী তাঁর বার্তায় সশ্রদ্ধ চিত্তে উল্লেখ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও অমূল্য অবদানের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মাথা উঁচু করে রয়েছে। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী দেশ জুড়ে জাঁকজমকভাবে পালন করার কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যবাসীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে কেন্দ্রীয় সরকার যে নতুন রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ, তাও তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল রাজনৈতিক প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনার এক বড় প্রয়াস। তিনি বাংলায় ৮২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি বিশাল পরিকাঠামো উন্নয়ন প্যাকেজের সংস্থান করেছেন। এই বিরাট অঙ্কের বিনিয়োগের ফলে রাজ্যের একাধিক রাস্তাঘাট তৈরি, সেতু নির্মাণ, পানীয় জলের সুব্যবস্থা এবং গ্রামীণ এলাকার সার্বিক পরিকাঠামোগত খামতি দূর করার গতি অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে。

পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে রেলের ভূমিকা অসাধারণ। বাংলার রেল যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও যাত্রীবান্ধব করতে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার একগুচ্ছ রেল সংস্কার প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণ যেমন এর অন্যতম লক্ষ্য, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ লাইনের সম্প্রসারণ এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও এই মেগা প্রজেক্টের অংশ হতে চলেছে।

রাজ্যে এ বার থেকে পুরোদমে সবকটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। এ বার চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা ও ধনধান্য যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সামাজিক প্রকল্পগুলি। পূর্বে কিছু প্রশাসনিক মতপার্থক্যের জন্য এই সব প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যবাসী সেভাবে পেত না। নতুন সরকার আসায় সেই বাধা কেটে গিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এছাড়া পিএম কিষান সম্মান নিধির পরবর্তী কিস্তির টাকা সরাসরি চাষীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এই সফর থেকেই।

কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, মৎস্য চাষ এবং পশুপালনের মতো বাংলার সনাতন ও জীবিকানির্ভর ক্ষেত্রগুলিতে একগুচ্ছ ছোট ও মাঝারি উন্নয়নমূলক স্কিমের উদ্বোধন এবং নতুন নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মৎস্যজীবীদের স্বনির্ভরতা বজায় রাখা এবং পশুপালকদের সহযোগিতা জোরদার করাই এই সমস্ত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে গ্রামের অর্থনীতিকে আরও সচল করা যায়, সেই পথ দেখাবে এই সরকারি পদক্ষেপগুলি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রবিবারের কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু কলকাতা শহর। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে আজ অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। হাজার হাজার উৎসাহী মানুষের সঙ্গে একাসনে বসে যোগচর্চা করবেন তিনি। ভারতের প্রাচীন যোগ ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠা করার পর এ বার কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশ ও বিশ্ববাসীকে সুস্থ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ডাক দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্র ও রাজ্যের নতুন বোঝাপড়া পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য এক নতুন আশার আলো বয়ে এনেছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় স্কিমগুলির অভূতপূর্ব সমাহার রাজ্যবাসীর সার্বিক জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং একযোগে বাংলার উন্নয়ন তরান্বিত করাই এখন ডাবল ইঞ্জিন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, প্রধানমন্ত্রীর এ বারের সফরে এই বার্তাই আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল।

Previous post

Gold Price Today: জামাইষষ্ঠীতে সোনার দামে চমক ! দেখে নিন ১ গ্রাম কিনতে আজ কত খরচ হবে ?

Next post

Mahaprabhu Jamai Sasthi Bhog: ধুতি-পাঞ্জাবিতে নবদ্বীপের ‘জামাই’ সাজে শ্রীচৈতন্য! ভোগের মেনুতেও স্পেশ্যাল সব পদ, মহাপ্রভুর পাতে আজ কী কী থাকছে জানুন

Post Comment

You May Have Missed