কলকাতা পুরসভার ভোট নিয়ে বড় ঘোষণা, ডিসেম্বরের আগেই নতুন বোর্ড গঠনের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

কলকাতা পুরসভার ভোট নিয়ে বড় ঘোষণা, ডিসেম্বরের আগেই নতুন বোর্ড গঠনের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

Kolkata

-Ritesh Ghosh

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ এবং শহরের শাসনভার নিয়ে নানা মহলে জোরালো আলোচনা চলছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বোর্ডের ভাঙনের পর আপাতত পুরসভা সচল রাখার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রাজ্য নিযুক্ত প্রশাসক। এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রশ্ন, কবে আবার স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট হবে কলকাতায়? সোমবার কলকাতা পুরসভার এক বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে সেই উত্তর দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতায় নতুন পুরবোর্ড গঠন সম্পন্ন করা হবে।

কলকাতা পুরসভায় কেন হঠাৎ প্রশাসক বসাতে হল, সেই ব্যাখ্যাও এদিন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, পুরসভার আগের বোর্ড সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিল। তৃণমূলের বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই কারণেই সরকার প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওরা সবাই মেয়র হতে চায়! কিন্তু নাগরিকদের পরিষেবা তো এক মিনিটের জন্যও বন্ধ রাখা যায় না।”

Suvendu Adhikari announces Kolkata election timeline

রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটিতে বড়সড় ভাঙন শুরু হয়। প্রথমে বিধায়ক ও সাংসদদের বিদ্রোহের জেরে পরিষদীয় এবং সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আঁচ এসে পড়ে কলকাতা পুরসভাতেও। মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। তৃণমূলের অন্দরে সই সংগ্রহের সময় দলের সিংহভাগ কাউন্সিলরই সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেন। প্রত্যেকেই মেয়রের গদি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যায়।

তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে নাগরিক পরিষেবা যাতে এক মুহূর্তের জন্যও থমকে না যায়, তার জন্য নবান্ন হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। পুরসভার কাজের গতি ধরে রাখতে রাজ্য সরকার বিশেষ ক্ষমতা বলে স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করে এবং কাউন্সিলরদের ক্ষমতা রদ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, কলকাতা পুরসভার একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বরেণ্য এই পুরসভার মেয়রের আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন। তাই এর ঐতিহ্য ও গৌরব বজায় রাখা নতুন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

কলকাতা শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার, জল নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ভেঙে পড়া নাগরিক পরিকাঠামোকে নতুন রূপ দিতে বড় আর্থিক উপহারের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভার সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হতে পারে। তবে এই অর্থ যাতে সঠিক উপায়ে মানুষের কাজে লাগে, তার জন্য প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করতে চায় সরকার। সেই কারণে নির্বাচনের আগে শহরের ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণ এবং পরিকাঠামোর সুষম বণ্টন প্রয়োজন।

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নির্বাচনের দামামা বাজবে কলকাতায়। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের যেসব পুরসভায় এই মুহূর্তে প্রশাসক কাজ চালাচ্ছেন, সব জায়গাতেই দ্রুত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ড গঠন করতে চাই।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বিন্যাসে বদল আসবে, যা ভোটের সমীকরণকেও প্রভাবিত করতে পারে।

Post Comment

You May Have Missed