পদ আঁকড়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাই, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন চিঠি দিল বাবুনকে
কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Babun Banerjee) বিরুদ্ধে পদ আঁকড়ে থাকার অভিযোগ। IOA-র ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ধৃত সুজিত বসুর বিরুদ্ধে।
১৫দিন আগে চিঠি দিলেও একাধিক পদ আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা এমনই অভিযোগ উঠছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই ও ধৃত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে ফের চিঠি দিচ্ছে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (Bengal Olympic Association)। বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব থেকে রাজ্য টেবিল টেনিস সংস্থার প্রসিডেন্ট, একাধিক পদে বসে বাবুন। রাজ্য হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনেরও সচিব বাবুুন। এখনও রাজ্য জুডো অ্যাসোসিয়েশন ও হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট পদে ধৃত সুজিত বসু।
বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনর সচিব জরর দাস জানান, ‘এক প্রার্থী এক পদ এই নীতিতে আমরা চিঠি দিয়েছি, আরও কিছু চিঠি দেওয়া হবে। সুজিত বসুকে, প্রাক্তন সভাপতি স্বপন বন্দোপাধ্যায়কেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভোটের পরেই এই চিঠিগুলি দেওয়া হয়েছে। বক্সিং, টেবিল টেনিস এবং হ্যান্ডবল, এই তিনটি সংস্থা বিভিন্ন পদে ছিলেন বাবুন বন্দোপাধ্যায়।’
আরও পড়ুন:- ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয় পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রের পদ ছাড়তে চেয়ে চিঠি অরূপ চক্রবর্তীর
অপরদিকে আবার, পালাবদলের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আরেক ভাই, কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘দখলমুক্ত’ হল হরিশ পার্কের ক্লাব। দীর্ঘদিন হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি দখল করে রাখার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তবে পালাবদলের পর অবশেষে কার্তিকের ‘দখলমুক্ত’ ক্লাব।
খাস কলকাতায় হরিশ পার্ক ক্লাব নামে আস্ত একটি পার্ক ও হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি নামের ক্লাব কার্তিক বন্দোপাধ্যায় দখল নিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পার্কের পাশে আস্ত একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি হয়েছিল কার্তিকের ছেলে আবেশ বন্দোপাধ্যায়ের জন্য। আবেশ যখন এখানে অনুশীলন করতেন, তখন অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় ব্যক্তি থেকে প্রাক্তন ক্লাব সদস্যরা। তবে ৪ঠা মে-র পর ক্লাবের প্রাক্তন সদস্য ও সাধারণ নাগরিকরা পুনরায় ক্লাবের দখল নিয়েছে।
তাঁরা ক্লাবে আগে ঝোলানো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়েছেন। প্রাক্তন সদস্যরা পূর্বতন ক্লাব কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কমিটি এখনও ইস্তাফা দেয়নি। যদি সেই ইস্তফা না দেওয়া হয়, তাহলে সদস্যরা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নেবে বলেও জানানো হয়েছে। এই হরিশ পার্কেই কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ের ক্লাব বিবেকের না না অনুষ্ঠান খেলাধুলো, যেমন বিবেক কাপ, বিবেক মেলা সবই এখানে হত। সাধারণ মানুষের যত্রতত্র আনাগোনা নিষিদ্ধ ছিল। ২০২২ সালের পর এই হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ।
এক স্থানীয় ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘শুধু ভবানীপুর, গোটা কলকাতার যেখানে যেখানে ওঁ মনিটারিং করত, সেটা এখান থেকেই হয়েছে। ওঁ তো এটা করবে বলেই ক্লাবের সকলকে বার করে দিয়ে, জবরদখল করে নিজেদের মতো মেম্বর কমিটি নিজেদের মতো বানিয়ে নিয়ে, সবকিছু সাজিয়ে গুজিয়ে ক্লাবটাকে পার্টি অফিসে পরিণত করে দিয়েছে।’



Post Comment