বাংলা সিনেমায় সুযোগ দিয়েছিলেন, সেই অভিনেতাকেই আবার অনীক দত্ত বলেছিলেন, এক সিনের পার্ট কি করবে?
কলকাতা: একটা সময়ে, জহুরীর মতো নিজেই খুঁজে নিয়েছিলেন অভিনেতাকে। সুযোগ দিয়েছিলেন নিজের ছবিতে। পরে যখন সেই অভিনেতাই একের পর এক ছবিতে অভিনয় করছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা হতে বলেছিলেন, ‘তুমি তো এখন হিরো হয়ে গেছো। আমার ছবিতে আর এক সিনের পার্ট কি করবে?’ এমনই ছিলেন, পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)। বুধবার অভিনেতার অকাল প্রয়াণ যেন মেনে নিতে পারছে না টলিপাড়া। প্রত্যেকেই পরিচালকের সঙ্গে টুকরো টুকরো স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। আর প্রত্যেক স্মৃতিতেই যেন মনখারাপের ছোঁয়া। প্রত্যেক কথাতেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অনীক দত্ত যে… তিনি ভীষণ একা। তাঁর কথা শোনার কেউ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ, পরিচালকের স্মৃতি হাতড়ালেন অভিনেতা ঋষভ বসু (Rishav Basu)।
অনীক দত্তের স্মৃতিতে লিখলেন ঋষভ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋষভ লিখেছেন, ‘২০১৬ সালে ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ সিনেমায় আমায় প্রথম কোনও পরিচালক বাংলা সিনেমায় সুযোগ দিয়েছিলেন। তার নাম অনীক দত্ত। দেখতে দেখতে আমার দশ বছর কেটে গিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। অনেকগুলো কাজই করে ফেলেছি সিনেমায়, ওয়েব সিরিজে, টেলিভিশনে। এর মধ্যে অনীকদার সঙ্গে আরও দুটো সিনেমায় কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং ‘অপরাজিত’। এই দুটো সিনেমাতেই মাত্র একটি করে দৃশ্য ছিল আমার। ‘অপরাজিত’-র সময়ে মনে আছে, অনীকদা আমায় নিজে ফোন করে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি না করো, তাহলে আমার সিনেমার রবীশঙ্করের অংশ আমি রাখতে পারব না, লুকটা চাই।’ আজ পর্যন্ত কোনো পরিচালক আমায় এই কথাটা বলেননি। আমার অভিনীত প্রায় সবকটি সিনেমার প্রিমিয়ারে উনি এসেছেন। সিনেমা দেখে রাতে ফোন করতেন, কখনও প্রশংসা করতেন আবার কখনও সমালোচনা। কিছুদিন আগে যখন দেখা হল, তখন অনীকদা আমাকে বললেন, ‘তুমি তো এখন হিরো হয়ে গেছ। আমার ছবিতে আর এক সিনের পার্ট কি করবে?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ অনীক দা করব।’ সেই সিনেমাটা আর হয়তো হবে না। তবে বাংলা সিনেমায় আমার মতো অখ্যাতদের যিনি সুযোগ দিয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে যিনি সিনেমাকে হাতিয়ার করে লড়েছেন, সেই অনীকদা আমাদের কাজের মধ্যে ‘অপরাজিত’ হয়ে থাকবেন চিরকাল। ভালো থাকবেন অনীকদা’।



Post Comment