ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ? ভোটমুখী পঞ্জাবে তরজা চরমে
নয়াদিল্লি: বছর ঘুরলেই পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে খবরের শিরোনামে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। ভোটমুখী পঞ্জাবকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে দিলজিতের কাছে অনুরোধ এসেছে। দিলজিৎ যদিও সেই সব অনুরোধ প্রত্যাখ্য়ান করেছেন। সেই আবহেই দিলজিতের নাগরিকত্ব নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন দিলজিৎ। সেই আবহে বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মান। সম্প্রতি দিলজিতের ম্যানেজারের বাড়ির কাছে গুলি চলার ঘটনায় বিজেপি-র দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি-র তরফে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল বলেও দাবি তাঁর। যদিও ওই ঘটনার জন্য় পঞ্জাবের আম আদমি পার্টিকেই দায়ী করেছে বিজেপি। (Dilijit Dosanjh Citizenship Row)
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে আর ভারতের নাগরিক নন দিলজিৎ। চুপিসাড়ে ২০২২ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমেরিকার পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। দিলজিতের স্ত্রী সন্দীপ কৌরও আমেরিকার নাগরিক। আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় ঠিকানা হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ৫ কামরা বিশিষ্ট ৩১০০ বর্গফুটের বাংলোর উল্লেখ করেছিলেন দিলজিৎ। গত মাসেও আমেরিকার পাসপোর্ট ব্যবহার করেই ভারতে এসেছিলেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ই-ভিসা ব্যবহার করছেন দিলজিৎ। অর্থাৎ OCI কার্ডও নেই তাঁর। (Diljit Dosanjh News)
গত সপ্তাহে অবসরপ্রাপ্ত IAS অফিসার, সেনা আধিকারিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের তরফে প্রথম সারির একটি সংবাদপত্রের পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, যাতে পঞ্জাবের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে আহ্বান জানানো হয় দিলজিৎকে। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন শিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘কখনওই নয়। আমার কাজ মনোরঞ্জন করা। নিজের কাজে খুশি আমি। অসংখ্য ধন্যবাদ’। তবে ভারতে যেহেতু দ্বৈত নাগরিকত্বের চল নেই, তাই আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করা দিলজিৎ চাইলেও ভারতের রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। যদি রাজনীতিতে আসতেও চান, তাহলে পুনরায় নাগরিকত্বেক জন্য আবেদন জানাতে হবে তাঁকে।
#WATCH | Delhi | Punjab CM Bhagwant Mann says, “In the last few days, it was heard that Diljit (Dosanjh) was being pressurised by the BJP to enter politics. Diljit has clearly said that he is an artist and enjoys his work. Then, there are other ways (of creating pressure) by… pic.twitter.com/mZ4ksHbAEc
— ANI (@ANI) May 13, 2026
নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি দিলজিৎ। তবে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে পঞ্জাবের রাজনীতিতে। সেই আবহে বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত। দিলজিতের ম্যানেজারের বাড়িতে গুলি চলার ঘটনায় তাঁর বক্তব্য, ” দিলজিৎকে দলে আনতে মরিয়া হয়ে ওঠেন বিজেপি নেতৃত্ব। দিলজিৎ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্য়ান করায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়, ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। ভগবন্ত বলেন, “গত কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল যে, রাজনীতিতে পা রাখার জন্য বিজেপি-র তরফে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল দিলজিতের উপর। দিলজিৎ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি শিল্পী, নিজের কাজ করে যেতে চান। তার পর নানা উপায়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। ম্যানেজারকে লক্ষ্য় করে গুলিও চলে। এই ধরনের রাজনীতি কাম্য নয়।”
আরও পড়ুন: পাহাড়ে ম্যাগি বিক্রি করে এত লাভ? ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও ভাইরাল, কর্পোরেট চাকরি ছাড়তে চাইছেন অনেকেই
ভগবন্তের আরও দাবি করেন যে, তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ বিজয় যে সাফল্য পেয়েছেন, দিলজিৎকে সামনে রেখে পঞ্জাবকে সেভাবেই নিজেদের হাতে আনার লক্ষ্য ছিল বিজেপি-র। তাঁর কথায়, “তামিলনাড়ুতে বিজেপি-র সাফল্য দেখে বিজেপি-র মনে হয়, শিল্পীর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। তাই দিলজিৎকে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করে। দিলজিৎ বিজেপি-র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার পরই ভীতিপ্রদর্শনের রাজনীতি শুরু হয়, যা অত্যন্ত অন্যায়। ওঁর ম্যানেজারের বাড়িতে হামলার ঘটনাই বুঝিয়ে দেয়, হুমকির রাজনীতি চলছে।”
যদিও রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি সুনীল জাখর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, আম আদমি সরকারের অব্যবস্থার দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি। সিধু মুসেওয়ালা হত্যার প্রসঙ্গও টানেন।
১৯৮৪ সালের ৬ জানুয়ারি পঞ্জাবের জলন্ধরে জন্ম দিলজিতের। কেরিয়ার শুরু হয়েছিল গান গেয়ে, পরবর্তীতে অভিনেতা হিসেবেও নিজের জাত চেনান। সেই সঙ্গে বিতর্কও সঙ্গী হয় তাঁর। বছর দুয়েক আগে ইন্দৌরের কনসার্টে রাহত ইন্দৌরির ‘কিসি কে বাপ কা হিন্দুস্তান থোড়ি হ্যায়’ কবিতাটি আওড়ায় দক্ষিণপন্থীদের রোষানলে পড়েন দিলজিৎ। তবে ভারতের মধ্যেই নয় শুধু, বিদেশেও দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিলজিতের। গত মাসে ‘দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি ফ্যালন’-এ গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে শিখ ইতিহাস, পঞ্জাব নিয়ে গর্বের কথা তুলে ধরেন। আবার কানাডায় খালিস্তানপন্থী পতাকা নিয়ে হুজ্জুতি করলে, কয়েক জনকে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যেতেও বলেন তিনি। সেই নিয়েও রোষানলে পড়েন। খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাকামী নেতা গুরুপতওয়ন্ত সিংহ পান্নুম হুমকি দেন দিলজিৎকে।



Post Comment